logo

দেশজুড়ে রেলস্টেশনে ইন্টারনেট সুবিধা

দেশজুড়ে রেলস্টেশনে ইন্টারনেট সুবিধা

ঢাকা, ১৪ জানুয়ারি- এবার রেলভবন ওয়াই ফাই সিস্টেমের আওতায় এলো। এর ফলে রেলভবনে কর্মরত ও অতিথিরা সরকারি ব্যয়ে ইন্টারনেট সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, দেশে ৬২টি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনে ওয়াইফাই চালু আছে। যাত্রীরা ল্যাপটপ, ট্যাব, অ্যানড্রয়েড ফোনে এ সুবিধা নিয়ে ইন্টারনেট ব্রাউজিং ছাড়াও ই-মেইল আদান-প্রদান করতে পারছেন। রেলওয়ে ধীরে ধীরে চলে যাবে ই-ফাইলিং সিস্টেমে। ভবিষ্যতে দেশজুড়ে এ সিস্টেম চালু হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রেলভবনে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ওয়াইফাই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ। তথ্যপ্রযুক্তির দিক দিয়ে এ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’ 

রেলভবনে ওয়েইফাই পুরোপুরি কার্যকর করতে ইতোমধ্যে ২টি সার্ভার ও ফায়ারওয়াল, ২টি ওয়্যারলেছ ল্যান কন্ট্রোলার, ৩০টি একসেস পয়েন্ট টাইপ-১, ২৫টি একসেস টাইপ-২, ৯টি পাওয়ার ওভার ইন্টারনেট সুইচ ও হার্ডওয়্যারসহ ১টি নেটওয়ার্ক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার স্থাপন করা হয়েছে।  

রেল সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন বলেন, ‘রেলভবনে ওয়াইফাই চালু হয়েছে। আধুনিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তি আনা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনে অনলাইনে টিকিটিং চালু করা হয়েছে।’

জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তি বাস্তবাস্তবায়নে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড কাজ করছে (প্যাকেজ নং-জি-৭)। ১০ কোটি ৯২ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যায়ে গত বছর ১৮ জুন একটি চুক্তিসই হয়েছে। মেয়াদকাল তিন বছর। ২০১৮ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা করা হবে। ওয়াইফাই কানেকটিভিটির জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।  

ওয়াইফাই কানেকটিভিটি ও ই-ফাইলিং কার্যক্রম চালুর ফলে সরকারি নির্দেশ পরিপালনে অত্যন্ত অগ্রণী ও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়েকে ডিজিটাইজড করার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

রেলওয়ের পক্ষ থেকেও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন ও প্রসারের লক্ষ্যে এর মধ্যেই যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ৬২টি বড় বড় স্টেশনকে কম্পিউটার ট্র্যাকিং সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে।  

এ ছাড়া যাত্রীরা ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা এ ৬টি স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট অনলাইনে কিনতে পারছেন। গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক ব্যবহারকারীগণ ১৬৩১৮ নম্বরে খুদেবার্তার পাঠানোর মাধ্যমে যে কোনো ট্রেনের সময়, অবস্থান, পরবর্তী স্টপেজ, বিলম্ব বিষয়ে ফিরতি বার্তায় জানতে পারবেন।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম স্টেশন ঢাকা, ঢাকা বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ওয়াইফাই চালু করেছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে এ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।

ঢাকা স্টেশন, ঢাকা বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম স্টেশনে ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে। যাত্রীরা তাদের স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ ব্যবহার করে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সুবিধা পাচ্ছেন।

বর্তমানে রেলওয়ের প্রায় ২০০০ কিলোমিটারের একটি অপটিক্যাল ফাইভার ভিত্তিক টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা গ্রামীণ ফোন লিমিটেডকে লিজ দেয়া হয়েছে। রেলওয়ে সংস্কার প্রকল্পের আওতায় এডিবি’র অর্থায়নে উক্ত অপটিক্যল ফাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে রেলওয়ের জন্য একটি নিজস্ব তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপরিচালক ( রোলিং স্টোক) খলিলুর রহমান, জিএম মোজাম্মেল হকসহ রেলপথ মন্ত্রনালয় ও রেলওয়ের বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।