logo

শিল্পীরা বিশ্বের সম্পদ: মমতা

সোহম সেনগুপ্ত


শিল্পীরা বিশ্বের সম্পদ: মমতা

কলকাতা, ১৪ জানুয়ারি- শিল্পীরা বিশ্বের সম্পদ। তাদের মর্যাদা দিতে হবে। বুধবার বারাসতে যাত্রা উৎসবে উদ্বোধনে এসে এ কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি বলেন, উৎসব দরকার। উৎসব ছাড়া মানুষের জীবন চলে না। সংস্কৃতি আছে বলেই মানুষ বেঁচে আছেন। যাত্রা মানুষের কথা বলে। মাটির কথা বলে। জীবনযাত্রার কথা বলে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩১১ জন দুঃস্থ যাত্রাশিল্পীকে ৯ হাজার টাকা করে এককালীন ভাতা দেওয়া হয়েছে। ৫৮ হাজার শিল্পীকে লোকপ্রসার শিল্পেরও আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের ১ হাজার টাকা করে পেনশন দেওয়া হচ্ছে। বুধবার বিকেলে বারাসত কাছারি ময়দানে ২০তম যাত্রা উৎসবের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, শীতকালে মানুষ যাত্রা দেখবে না ভাবা যায় না। যাত্রাশিল্পীদের মধ্যে মেধা আছে। যাত্রা মানুষের কথা বলে। মাটির কথা বলে। জীবনযাত্রার কথা বলে। গ্রামবাংলায় যাত্রাকে জনপ্রিয় করার জন্য সকলকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ব্রাত্য বসু, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রহিমা মণ্ডল, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ গোস্বামী, জেলার মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদদের উপস্থিতিতে তিনি বলেন, এ বছরেই নয়, প্রতি বছরই যাত্রা উৎসব বারাসতের কাছারি ময়দানে হবে।

এদিন ১৪ জন যাত্রাশিল্পীর হাতে ১ লক্ষ টাকা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ২৩ জন লোকশিল্পী ও ৮ জন বাদ্যযন্ত্রীর হাতে সরকারি পরিচয়পত্রও তুলে দেন তিনি। কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গেই এদিন তিনি সত্যনারায়ণ অপেরার পরিবেশনায় ‘আলো আমার আলো’ যাত্রাপালাটি বেশ কিছুক্ষণ দেখার পর কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন।

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের সফরকে ঘিরে কাছারি ময়দান–সহ বারাসতের বিভিন্ন এলাকা সাজিয়ে তোলা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ গোস্বামীর উদ্যোগে জেলার ২২টি ব্লক থেকেই বাস, ম্যাজিক গাড়ি, ম্যাটাডোর–সহ বিভিন্ন যানবাহনে হাজার হাজার মানুষ এদিন আসেন বারাসত কাছারি ময়দানে। দর্শকদের শীতের মধ্যে যাতে যাত্রা দেখতে অসুবিধা না হয় তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাউনিরও ব্যবস্থা করা হয়।