logo

পাকিস্তানে কূটনীতিকদের ওপর নজরদারির প্রতিবাদ বাংলাদেশের

পাকিস্তানে কূটনীতিকদের ওপর নজরদারির প্রতিবাদ বাংলাদেশের

ইসলামবাদ, ১৪ জানুয়ারি- এক সপ্তাহ ধরে ইসলামাবাদ ও করাচিতে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের পাকিস্তানি গোয়েন্দারা নানাভাবে হয়রানি করছে বলে বাংলাদেশ প্রতিবাদ জানিয়েছে। ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে তলব করে গত সোমবার এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এরপর বাংলাদেশের কূটনীতিকদের ওপর পাকিস্তানের গোয়েন্দা নজরদারি কমেছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র আজ বুধবার নিশ্চিত করেছে। 

পাকিস্তানের গোয়েন্দা নজরদারি বেড়েছে কি না জানতে চাইলে ইসলামবাদে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সোহরাব হোসেন আজ বুধবার কোন মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। 

অবশ্য করাচিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনার নুর-ই হেলাল সাইফুর রহমান মোবাইলে বলেন, এক সপ্তাহ আগে থেকে করাচিতে উপ-হাইকমিশনে নিযুক্ত কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের কর্মস্থল, বাসা যেখানেই গেছেন তাদের অনুসরণ করেছে গোয়েন্দারা। দিনের অধিকাংশ সময়ই বাংলাদেশের কূটনীতিক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছায়ার মতো লেগে থেকেছে সেখানকার গোয়েন্দারা। তবে গতকাল মঙ্গলবার থেকে এ পরিস্থিতির কিছু উন্নতি হয়েছে। গোয়েন্দাদের তৎপরতা অনেকটা কমেছে। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, পাকিস্তানে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে হয়রানির প্রতিবাদে গত সোমবার ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার সুজা আলমকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তলব করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মিজানুর রহমান পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে বলেন, বাংলাদেশের কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান যা করছে সেটি ভিয়েনা সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাকিস্তানের এ আচরণ বাংলাদেশকে চরম ক্ষুব্ধ করেছে। অবিলম্বে এসব অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের এ অবস্থানের বিষয়টি ইসলামাবাদকে জানাতে বলা হয় সুজা আলমকে। 

বাংলাদেশের কূটনীতিক-কর্মকর্তাদের ওপর পাকিস্তানের গোয়েন্দা নজরদারি দুই দেশের তিক্ত সম্পর্কে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। সর্বশেষ পাকিস্তানের কূটনীতিক ও এক কর্মকর্তাকে ঢাকা থেকে প্রত্যাহারের জের ধরে বাংলাদেশের এক কূটনীতিককে ইসলামাবাদ থেকে প্রত্যাহার করতে বলার পর সম্পর্কে তিক্ততা বেড়ে যায়। তিক্ততার জের ধরে ঢাকায় শেষ হওয়া মন্ত্রী পর্যায়ের একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে শেষ পর্যন্ত আসেননি পাকিস্তানের কোন মন্ত্রী।