logo

মৃত্যু আশঙ্কায় ১০ দিন সময় পেলেন প্রিন্স মুসা

মৃত্যু আশঙ্কায় ১০ দিন সময় পেলেন প্রিন্স মুসা

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি- ডেথ ফোবিয়ার (মৃত্যু আশঙ্কা) কথা জানিয়ে হাজিরা দিতে দুদকের কাছে তিন মাসের সময় চেয়েছিলেন আলোচিত ব্যবসায়ী প্রিন্স মুসা বিন শমসের। তবে কমিশন তাকে মাত্র ১০ কর্মদিবস সময় দিয়েছে। আগামী ২৮ জানুয়া‌রি সকাল ১১টায় সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হতে চিঠি দেয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার জানান, বুধবার দুপুর ২টায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালক ও অনুসন্ধানী কর্মকর্তা মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী তার ঢাকাস্থ গুলশান ও বনানী ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়েছেন। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক ক‌মিশ‌নার মো. সাহাবু‌দ্দিন চুপ্পু বলেন, মুসা বিন শমসেরকে তার আবেদন বিবেচনা করে ১০ কর্মদিবস সময় দেয়া হয়েছে। সে অনুসারে তাকে আগামী ২৮ জানুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদ করবে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা।

দুদক সূত্র জানায়, ডেটকো গ্রুপের মালিক মুসা বিন শমসের। তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানে গত ৪ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিলেন অনুসন্ধানী কর্মকর্তা। কিন্তু একদিন আগেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ ডেথ ফোবিয়ার (মৃত্যু আশঙ্কা) কথা জানিয়ে হাজিরা দিতে তিন মাসের সময় চেয়ে আবেদন করেন তিনি। মুসা বিন শমসেরের পক্ষে তার জনশক্তি প্রতিষ্ঠান ডেটকো প্রাইভেট লিমিটেডের এক কর্মকর্তা দুদক চেয়ারম্যানের বরাবর আবেদনটি করেন।

দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তিনি বলেছেন, সুইস ব্যাংকে তার ১২শ কোটি ডলার রয়েছে; বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসাবে)। যৌথ অ্যাকাউন্টকাধারীদের মাঝে তারই নিজস্ব অ্যাকাউন্টে এই টাকা আছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে যৌথ অ্যাকাউন্টধারীদের সঙ্গে ‘ডিড অব অ্যাগ্রিমেন্ট’ থাকার কারণে ওই অ্যাকাউন্টে অন্যদের কী পরিমাণ অর্থ রয়েছে এবং ওই অ্যাকাউন্টের অংশীদার কতজন সে বিষয়ে তিনি কিছু উল্লেখ করেননি।

এছাড়াও সম্পদ বিবরণীতে বলা আছে, সুইস ব্যাংকের আরেক অ্যাকাউন্টে তার ৯০ মিলিয়ন ডলারের (৭১১ কোটি টাকা) সমপরিমাণ প্লাটিনাম, হীরা ও স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। এছাড়া, সম্পদ বিবরণীতে বলা হয়েছে, রাজধানীর গুলশানের ৮৪ নম্বর রোডে ‘দ্য প্যালেস’ নামে ১৫ নম্বর বাড়িটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে ২০ কোটি টাকা নিয়েছেন মুসা বিন শমসের। ওই বাড়িটি তার নামে ছিল। পরে তিনি তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরীকে বাড়িটি দান করেছেন। এছাড়া গাজীপুর ও সাভারে তার নামে ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি রয়েছে। তার কাছে ওইসব জমির দলিল থাকলেও জমিগুলো দখলে নেই। জমিগুলোর দখল ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মুসা বিন শসমেরের সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছেন দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদিন শিবলী। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় প্রথমে তাকে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।