logo

প্রধানমন্ত্রীর ‘রুটিন বক্তব্যে’ জাতি হতাশ: বিএনপি

প্রধানমন্ত্রীর ‘রুটিন বক্তব্যে’ জাতি হতাশ: বিএনপি

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারী- সরকারের দুই বছর মেয়াদপূর্তিতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ‘রুটিন বক্তব্য’ আখ্যায়িত করে বিএনপি বলেছে, এই ভাষণে জাতি ‘হতাশ’ হয়েছে।

গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “গতকাল (মঙ্গলবার) প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন। এই ভাষণ জাতিকে হতাশ করেছে।

“জাতির প্রত্যাশা ছিল- দেশে যে গভীর রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার ভাষণে তা নিরসনের একটি দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য, প্রধানমন্ত্রী রুটিন বক্তব্য রেখেছেন।”

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কোনো কটাক্ষ সহ্য করা হবে না।

প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যারা জানমালের ক্ষতি করেছে, তাদের শাস্তির আওতায় আনার কথাও বলেন।

একই সঙ্গে শেখ হাসিনা তার সরকারের সময়ে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে। বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা (বাংলাদেশ) আজ  উন্নয়নের এক ঐতিহাসিক দিকসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।”

“আশাবাদী এবং আত্মবিশ্বাসী দেশবাসীকে সাথে নিয়ে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে পরিণত করব।”

‘উন্নয়ন মহাসড়কে’ ‍উঠে আসা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানাতে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, “বিগত দুই বছর ছিল গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করার সময়। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি দলীয়করণ করে জনগণের আশা-আকাঙ্খাকে ভুলন্ঠিত করার সময়কাল।”

দুই বছর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনকে ‘অদ্ভুত নির্বাচন’ অভিহিত করে তিনি বলেন, “ওই নির্বাচন ছিল প্রহসন। পরবর্তিতে রাবার স্ট্যাম্প সংসদ ও ‘অদ্ভুত সরকার’ গঠন করে প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে।

“পরবর্তিকালে উপজেলা নির্বাচন, ২০১৫ সালে ঢাকা ও চট্ট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও সর্বশেষ পৌর নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। ওইসব নির্বাচনে জনগণের আশা-আকাঙ্খার প্রতিফলন দেখা যায়নি।”

রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে কারচুপি, জাল ভোটের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিন, শাহ নুরুল কবির শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।