logo

আইএস মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ প্রবাসীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ

রোজিনা ইসলাম


আইএস মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ প্রবাসীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি- ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ বা দীক্ষিত বাংলাদেশি নাগরিকেরা প্রবাস থেকে ফিরে যাতে আইএসের পক্ষে কাজ করতে না পারে অথবা দেশে বিদ্যমান জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, ইরাক ও সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০১৩ সালে ইসলামি জঙ্গিবাদী সংগঠন আইএসের উত্থান ও ক্রমবিস্তার এবং অতি সম্প্রতি প্যারিসে সংঘটিত ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাসহ লিবিয়া, লেবানন, সৌদি আরব, মিসর ও মালির বিভিন্ন স্থানে হামলার বিষয়ে আইএসের দায় স্বীকারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আইএসের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড ও বিস্তৃতির প্রেক্ষাপটে দেশের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলার স্বার্থে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

এই সতর্কতার কারণ হিসেবে চিঠিতে বলা হয়, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব ও ইয়েমেনসহ আইএস-অধ্যুষিত এলাকায় বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করছে। সেখানে প্রবাসীদের মধ্যে কেউ স্বেচ্ছায় আইএস মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে অথবা অর্থসহ বিভিন্ন প্রলোভনে আকৃষ্ট অথবা বাধ্য হয়ে আইএসে যোগদানসহ তাদের পক্ষে কাজ করার আশঙ্কা থাকে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব দেশ থেকে ফিরে আসা প্রবাসীদের কেউ আইএসের পক্ষে কাজ করে কিংবা স্বার্থ হাসিল করতে একই মতাদর্শের জঙ্গি সংগঠন সৃষ্টি অথবা বাংলাদেশে বিদ্যমান বিভিন্ন জঙ্গি, চরমপন্থী সংগঠনগুলোর মধ্যে ঐক্য সৃষ্টির প্রয়াস চালাতে পারে। এভাবে তাদের মাধ্যমে দেশের ভেতরে আরও জোরালো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনসহ সরকারবিরোধী চক্রান্তে লিপ্ত হওয়ায় আশঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য হুমকি, সেটা সবাই বলছে। কিন্তু আইএস যে একটি ঝুঁকি, সেটা হয়তো প্রকাশ্যে কেউ বলছেন না। বর্তমানে বিশ্ব পরিস্থিতিতে বৃহত্তর ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে আইএসের কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া আইএসের মতো আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় জিহাদি গোষ্ঠীর সঙ্গে স্থানীয় সম্ভাব্য সহযোগীদের যোগসাজশের আশঙ্কাকে অবশ্যই মনোযোগের কেন্দ্রে আনতে হবে।

এই দুই কর্মকর্তা বলেন, দেশে সাম্প্রতিক বেশ কটি নাশকতায় আইএস দায় স্বীকার করেছে। এটা হয় তারা নিজেরা করছে কিংবা তাদের স্থানীয় মিত্রদের দিয়ে করাচ্ছে। তাই এখনই এসব বিষয়ে সতর্ক অবস্থা নেওয়া জরুরি।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের ওয়েবসাইট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন তালিকায় যে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের নাম রয়েছে, তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখার তাগিদ দেওয়া হয়।

আইএস মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ বা দীক্ষিতদের প্রবাস থেকে দেশে ফেরার বিষয়ে সতর্ক অবস্থা জারির বিষয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে।

জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান গতকাল চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এও বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো আইএস নেই।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশি কিংবা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণদের আইএসে যুক্ত হওয়ার বড় প্রমাণ সিরিয়ায় আইএসবিরোধী বিমান হামলায় সাইফুল হক নামে এক বাংলাদেশি যুবকের নিহত হওয়ার ঘটনা। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর ভাষ্য অনুযায়ী, সিরিয়া ও ইরাকে বিমান হামলায় নিহত আইএসের ১০ জন গুরুত্বপূর্ণ নেতার একটি তালিকা গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট প্রকাশ করে, যাতে বাংলাদেশি সাইফুল হকের নাম রয়েছে। ১০ ডিসেম্বর আইএসের কথিত রাজধানী সিরিয়ার রাকার কাছে বিমান হামলায় সাইফুল মারা যান। তিনি আইএসের হয়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনাকারী, হ্যাকিং কর্মকাণ্ড, নজরদারি প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং অস্ত্র উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট সতর্ক আছি। আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।’ বিদেশ থেকে যাঁরা ফিরবেন তাঁদের নাম ও ঠিকানা সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও যাচাই করা হবে বলে জানান আইজিপি।