logo

বর্ষবরণে যৌনসন্ত্রাসের জন্য অভিবাসীদের দায়ী করছে জার্মান কর্তৃপক্ষ

মাহাদী হাসান


বর্ষবরণে যৌনসন্ত্রাসের জন্য অভিবাসীদের দায়ী করছে জার্মান কর্তৃপক্ষ

বার্লিন, ১১ জানুয়ারি- জার্মানিতে বর্ষবরণে নারীদের উপর যৌন হামলা চালানোর জন্য পরোক্ষভাবে অভিবাসীদের দায়ী করলেন দেশটির আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। ওই দিনের ঘটনার পর ৫০০ এরও বেশি মামলা জমা পড়েছে। কোলনে নববর্ষ উদযাপনকালে নারীদের ওপর যে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে তার তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে সোমবার।

ধারণা করা হচ্ছে, নর্থ রাইন ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রালফ জায়েগার তদন্তের বিস্তারিত প্রকাশ করবেন। এ ঘটনার জন্যে তিনি আঞ্চলিক আইনপ্রণেতাদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। এমনকি সহিংসতার ঘটনার জন্যে শরণার্থীদের প্রতি উদারনীতির কারণে চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেলের ওপরও যথেষ্ট চাপ তৈরি হয়েছে।
আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের করা না হলেও পুলিশ বলছে, নগরীর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে নারীদের ওপর আশ্রয়প্রার্থী ও অবৈধ অভিবাসীরা এ সহিংসতা চালিয়েছে। এসব আশ্রয়প্রার্থী ও অবৈধ অভিবাসীদের অধিকাংশই উত্তর আফ্রিকার।

কোলনের এ ঘটনার পর পরই এর প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু হয়। একপর্যায়ে চ্যান্সেলর মার্কেল অভিযুক্ত আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। ইতোমধ্যে তিনি বহিষ্কার নীতি আরো সহজ করার আইনের পক্ষে সমর্থন দেয়ার আভাস দিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, নববর্ষের এ ঘটনার পর প্রায় ৫১৬টি অভিযোগ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪০ শতাংশ অভিযোগই যৌন হয়রানি সংক্রান্ত। কোলন শহরে ভয়ংকর এ সহিংসতার ঘটনায় জার্মানি প্রচন্ড ক্ষুব্ধ এবং নজর এখন গত বছর দেশটিতে আশ্রয় পাওয়া ১১ লাখ লোকের ওপর।

এদিকে বিচারমন্ত্রী হেইকো মাস বলেছেন, তার ধারণা কোলন শহরের এ সহিংসতা পরিকল্পিত। বিল্ড এম সোনতাঙ পত্রিকাকে তিনি বলেন, কেউ বলেনি যে এটি যে সংগঠিত ও পরিকল্পিত নয়।

পুলিশের গোপন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কিছু উত্তর আফ্রিকানকে নববর্ষ উদযাপনকালে কোলনে সমবেত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি