logo

নতুনরূপে ঐতিহ্যবাহী কাজীদিঘী

মিসবাহ উদ্দীন আহমদ


নতুনরূপে ঐতিহ্যবাহী কাজীদিঘী

সিলেট, ১১ জানুয়ারী- দিঘীর শহর সিলেটের দিঘীগুলো যেনো ক্রমশই হারিয়ে যেতে বসেছে। অবশিষ্ট আছে হাতে গোনা মাত্র ৩টি দিঘী; নগরীর  ধোপাদিঘী, লালাদিঘী আর অপরটি হচ্ছে কাজীটুলার কাজীদিঘী। দখলের গ্রাস ঐতিহ্যবাহী কাজীদিঘীকে না ছুঁলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছিল এর সৌন্দর্য্য। তবে নতুন করে খনন আর সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণের কারণে সরেছে কাজীদিঘীর জঞ্জাল।

এছাড়া গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশনের সাধারণ সভাতেও আলোচনা হয়েছে কাজীদিঘীর সংরক্ষণ আর সৌন্দর্য্যবর্ধনের বিষয়টি।

দিঘী চারপাশে ময়লা আবর্জনার স্তুপ, বাইরের মাটি জমে পানি নোংরা হয়ে গিয়েছিল। বছরের পর বছর ময়লা আবর্জনা জমে আর বাইরের মাটি গিয়ে বহুলাংশেই কমে এসেছিল দিঘীর গভীরতা। এখন আর সেই অবস্থা নেই। বর্তমান কাউন্সিলর দিলওয়ার হোসেইন সজীবের উদ্যোগে সরেছে এ দিঘীর ময়লা-আবর্জনা। দিঘীটি পেয়েছে নতুন রূপ।

কয়েক মাস আগে দীর্ঘ ১৭ বছর পর কাজীদিঘী নতুন করে খনন করা হয়েছে। দিঘীর গভীরে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করে বৃদ্ধি করা হয়েছে গভীরতা। পানিতে চুনা ঢেলে বাড়ানো হয়েছে পানির স্বচ্ছতা। এখন কাজীদিঘীর পানি আগের চেয়ে পরিষ্কার। তাছাড়া এলাকার মানুষদের সতর্কতা আর নজরদারির কারণে এখন আর দিঘীতে কেউ ময়লা আবর্জনা ফেলতে পারেন না। কাউন্সিলর অফিসের লোকজনও এ ব্যাপারে খুব নজরদারি করছেন। দিঘীতে ফেলা হয়েছে কয়েক হাজার টাকার মাছের পোনা।

একসময় কাজীদিঘীতে আশপাশের কলোনিসমূহের ভাড়াটিয়ারা ও দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ কাপড়-চোপড় ধৌত, বাসন ধৌত করতেন। দিঘীর পানির পরিচ্ছন্নতা রক্ষার্থে এখন এটা নিষেধ করা হয়েছে।

এর আগে ২০০৬-০৭ সালে প্রয়াত কাউন্সিলর আবদুল ওদুদ খালেদের সময়ে নেওয়া হয়েছিল দিঘীটির সৌন্দর্য্যবর্ধনের উদ্যোগ। তখন দেওয়া হয় এর সীমানা প্রাচীর। যা দিঘীর সৌন্দর্য্য বাড়িয়ে তোলে।

এ ব্যাপারে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর দিলওয়ার হোসেইন সজীব বলেন, ‘সিলেট নগরীর একটি ঐতিহ্যবাহী দিঘী হচ্ছে কাজীদিঘী। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজস্ব উদ্যোগে এই দিঘীটি খনন করেছি। দিঘী রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য সবসময় আমার এলাকার মানুষ নজরদারি রাখছেন। এখন আর এটি আগের মতো ময়লা আবর্জনার ভাগাড় নয়। এই দিঘীর পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছি। ’

এদিকে সিটি করপোরেশনের বিগত সাধারণ সভায়ও কাজীদিঘীসহ নগরীর সকল দিঘীর সৌন্দর্য্যবর্ধন ও সংরক্ষণের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।