logo

৭৫ বছরের গবেষণায় বেরোলো ভালো থাকার উপায়

৭৫ বছরের গবেষণায় বেরোলো ভালো থাকার উপায়

জীবনে বেঁচে থাকার অনেক উপায় আছে। এক্ষেত্রে সুখী হওয়ার পথটাই খোঁজেন সবাই। আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ৭৫ বছর ধরে গবেষণা করছে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়।

এটাই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে চলা গবেষণা। ১৯৩৮ সালে ২৬৮ জন হার্ভাড শিক্ষার্থীদের নিয়ে শুরু হয় এর পথচলা। তবে গবেষণা চালানো হয় মূলত: পুরুষের উপর। জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়। জানা হয় তাদের অভিজ্ঞতা। এভাবেই চলতে থাকে গবেষণা।

২৬৮ জনের বেশিরভাগই এখনো জীবিত রয়েছেন। এর মাধ্যমে কিছু বিষয় উঠে এসেছে গবেষকদের কাছে। তাদের দাবি, মূলত ভালো সম্পর্কই মানুষকে ভালো ও সুস্থ রাখে।

গবেষণার প্রধান জর্জ ভ্যালিয়ান্ট বলেন, সুখের আসলে দু’টি খুটি। একটি হলো ভালোবাসা। এবং আরেকটি হলো এমন কিছু যা ভালোবাসাকে দূরে ঠেলে দেয়না।

২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ৭৫ বছর ধরে চলা এই গবেষণার ফল একটিই বলে জানান জর্জ। আর তা হলো ‘ভালোবাসা’। তিনি বলেন, ‘ভালোবাসাই সুখ, আর কিছু নয়।’

সুখের অন্যান্য উপাদান
এছাড়া ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও সুখে থাকার জন্য জরুরি। গবেষণায় বলা হয়, যারা পরিবার, বন্ধু এবং সমাজের লোকজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তারা তুলনামুলক সুখে থাকেন বেশি। এমনকি তারা দীর্ঘায়ুও লাভ করে। আর যারা একা থাকেন তারা কম সুখী হন, বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগেন।  

আরেকটি বিষয় হলো সম্পর্কের উৎকর্ষতা। এর প্রভাব মূলত: নির্ভর করে বয়সের ওপর। গবেষকদের দাবি, অনেক বিবাহিত দম্পতি নিয়মিত তর্ক-বিতর্কে জড়ান এবং পরষ্পরের প্রতি কম আন্তরিক হন। এ ধরনের সম্পর্ককে গবেষকরা ‘মাত্রাতিরিক্ত দ্বান্দ্বিক বিবাহ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিশ বছর বয়সে অনেকেই সম্পর্কে জড়ান। এই বয়সেই সম্পর্কগুলো তেমন প্রভাব বিস্তার করে না। কিন্তু ত্রিশ বছর বয়সে এসে সম্পর্কের উৎকর্ষতা  সামাজিক ও মানসিকভাবে সুখে থাকতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


আরেকটি বিষয় হলো স্থিতিশীল দাম্পত্য সম্পর্ক। সামাজিক যোগাযোগ শুধু শারীরিকভাবে ভালো রাখে না, আমাদেরকে মানসিক শান্তিও দেয়। তালাকপ্রাপ্ত বা আলাদা না হয়ে যারা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত নির্বিঘ্নে দাম্পত্য সম্পর্ক চালিয়ে যেতে সক্ষমদের স্মৃতিশক্তি দীর্ঘায়িত হয়।

গবেষণায় আরো বলা হয়. মদ্যপান না করতে। এই নেশার কারণে মানুষের শরীরের ভয়াবহ ক্ষতিসাধন হয়। গবেষণায় দেখা যায় মদ্যপ ও ধূমপায়ী ব্যক্তিদের মৃত্যু অন্যান্যদের চেয়ে দ্রুত হয়।

আর অন্যভাবে বলতে গেলে মদ্যপানের কারণে অনেক সম্পর্কেই নষ্ট হয় বলে জানায় গবেষকরা। জীবনে সুখী হয়ে বেঁচে থাকার জন্য সুসম্পর্ক জরুরি। আর শুধু মদ্যপানের জন্য গবেষণার বেশিরভাগ পুরুষেরই বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।


টাকা, ক্ষমতা কিংবা জ্ঞান সুখের উৎস নয়
টাকা কিংবা ক্ষমতা সুখ আনতে পারে না বলে দাবি গবেষকদের। ২০১০ সালে অর্থনীতিবিদ এঙ্গাস ডিটন বলেছিলেন যে একজন ব্যক্তি বছরে ৭৫ হাজার ডলার আয় করলেই সুখী থাকবে এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। অনেকটা একই রকম কথা বলেন ভ্যালিয়ান্টও। তিনি বলেন, অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনি আপনার কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা।

আর আপনি অনেক কিছু জানেন বলেই যে আপনি সুখে থাকবেন এমনটাও নিশ্চিত নয়।