logo

তাহের-ননীর যুদ্ধাপরাধের রায় যে কোনো দিন

তাহের-ননীর যুদ্ধাপরাধের রায় যে কোনো দিন

ঢাকা, ১০ জানুয়ারি- নেত্রকোনার দুই রাজাকার ওবায়দুল হক তাহের ও আতাউর রহমান ননীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলার রায় হবে যে কোনো দিন। উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে বিচারপতি আনোয়ারুল হক নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রোববার মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রেখেছে। “এখন যে কোনো দিন রায় হতে পারে, বলেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান  বাদল।

দুই আসামিকে এদিন কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল।দেড় বছর আগে তারা গ্রেপ্তার হন। চলতি মাসের ৪ জানুয়ারি থেকে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের চার দিন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে এল।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ও সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নী। আসামি পক্ষে ছিলেন আব্দুস সোবাহান তরফদার ও গাজি এম এইচ তামিম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিরস্ত্র মানুষকে অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ এবং হত্যার অভিযোগ রয়েছে এই দুই আসামির বিরুদ্ধে।

তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দুইজন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন এবং পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করতে গঠিত রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নেত্রকোনা জেলা সদর ও বারহাট্টা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য তারা ‘কুখ্যাত রাজাকার’ হিসেবে পরিচিতি পান বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

এদের মধ্যে তাহের স্থানীয় রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার হিসেবে ননীসহ অন্যান্য রাজাকার সদস্যদের নিয়ে নেত্রকোনা শহরের মোক্তার পাড়ার বলয় বিশ্বাসের বাড়ি দখল করে রাজাকার ক্যাম্প স্থাপন করেছিলেন বলে প্রসিকিউশনের তথ্য।

২০১৩ সালের ৬ জুন এ দুই আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে প্রসিকিউশনের তদন্ত সংস্থা। একবছর চার মাস ২৮ দিন পর ওই তদন্তের প্রতিবেদন জমা পড়ে ট্রাইব্যুনালে।এর আগে ট্রাইব্যুনাল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে ২০১৪ সালের ১২ অগাস্ট এই দুজনকে গ্রেপ্তার করে নেত্রকোনা পুলিশ।