logo

বিরোধী থাকাকালীন শিল্পপতিদের ‘ডিস্টার্ব’ করিনি : মমতা

বিরোধী থাকাকালীন শিল্পপতিদের ‘ডিস্টার্ব’ করিনি : মমতা

কলকাতা, ১০ জানুয়ারি- বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের শেষ দিনে বড় চমক দেখালেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শনিবার এখানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী দাবি করে বসলেন, বিরোধী থাকাকালীন কখনও শিল্পপতিদের ডিস্টাব করেননি৷ যা শুনে উপস্থিত শিল্পপতিরাও কেমন থ মেরে গেলেন৷ গুলিয়ে গেল কয়েক বছর আগে দেখে আসা বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাটা৷ সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের আন্দোলন যাকে ক্ষমতায় এনেছে তাঁর মুখ থেকে এহেন বাণী যেন কিছুটা ধন্দে ফেলে দিল সভায় উপস্থিতি ব্যক্তিত্বদের ৷  মুখ্যমন্ত্রী বলে যাচ্ছেন, বাম আমলে সাতবার এমপি হয়েছেন অথচ তখন কখনও শিল্পের বিরোধিতা করেননি, কোনও শিল্পপতিকে ডিস্টার্ব করেননি৷ যার রেশ টেনে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর রাজ্যে কোনও শিল্পপতিকে বিরক্ত চলবে না ৷ কোনও সমস্যা হলে আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়া হবে বলেও বার্তা দেন এদিন মমতা৷

মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনে শিল্পপতিদের একাংশ বিস্ময় নিয়ে নিজেদের মুখ চাওয়াচাহি করতে থাকেন ৷ কেউ বা স্বগোতোক্তি করে ফেলে – তবে সিঙ্গুর  ছাড়ল কেন টাটারা৷ কেউ বা মনে করতে শুরু করেছেন এবার সত্যিই পরিবর্তন হচ্ছে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর আচরণে৷  শিল্পবিরোধি তকমা ঘোচাতে তিনি যেন মরিয়া বলেই মনে হয়েছে কারও কারও ৷ ফ্ল্যাশব্যাক করে কয়েকটা বছর পিছিয়ে গেলেই তো অনেকের চোখে ভেসে উঠছে সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক জমিদাতাদের আন্দোলনে সঙ্গে নেত্রীর জড়িয়ে পড়া,  অনশনমঞ্চ, তারপর এক সময় রতন টাটার সিঙ্গুর থেকে ন্যানো গাড়ি কারখানা সরিয়ে গুজরাতের সানন্দে নিয়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করা৷

যে সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে রতন টাটা বলেছিলেন, বন্দুক ঠেকালেও সিঙ্গুর ছাড়ব না বলেছিলাম কিন্তু মমতা তো ট্রিগারটাই টিপে দিলেন ৷  সেই সময় প্রায়শই বাকযুদ্ধে মেতে যেতে দেখা যেত রতন টাটা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ তাছাড়া রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিধানসভায় বিল পাশ করিয়ে ওই  সিঙ্গুরের জমি অনিচ্ছুক চাষিদের ফিরিয়ে দিকে উদ্যোগী হন৷ যদিও তার বিরোধিতা করে টাটারা মামলা করে এবং বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা চলছে ৷ তবে শুধু তো সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম বলে নয় কংগ্রেসে থাকাকালীন হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালস গড়ার সময়ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতিবাচক আচরণ লক্ষ্য করা গিয়েছিল৷ তাছাড়া রাজ্যে পালাবদলের পরে শাসক দলের মদতপুষ্ট সিন্ডিকেট ও তোলাবাজরা কেমন ভাবে শিল্পপতিদের হয়রানির কারণ হয়ে উঠেছে তা মুখ্যমন্ত্রীর অজানা নয়৷ ফলে তিনি বা তাঁর দল শিল্পপতিদের ডিস্টার্ব করেন না শুনে রাজনৈতিকমহলেও সমালোচনার সুর শোনা গিয়েছে ৷