logo

‘অচিরেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে’

‘অচিরেই জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হবে’

হবিগঞ্জ, ০৯ জানুয়ারী- বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীগঞ্জের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ দীঘলবাক উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭০বছর পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৯ জানুয়ারী) দিনব্যাপী বিদ্যালয় মাঠে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেছেন, ত্রিশ লাখ প্রাণের বিনিময়ে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিলো।

সবাই স্বাধীনতায় বিশ্বাসী হলেও কেবল মাত্র জামায়াত ও তার প্রভুরা এখনও স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি। যারা আমাদের জাতীয় পতাকাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে আগুনে পুড়িয়েছিলো সেই কুলাঙ্গারদের বিএনপি মন্ত্রী বানিয়েছিলো। এখন আর সেই দিন নাই। স্বাধীনতার চেতনায় আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বে এখন রোল মডেল।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে স্বাধীনতার ইতিহাস উল্টো পড়ানো হয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ঢেলে দিয়েছিলো স্বাধীনতা বিরোধী চক্র। স্বাধীনতা বিরোধীদের নেতা শাহ আজিজ ও আব্দুল আলীম কে জিয়া মন্ত্রী করেছিলেন। তার স্ত্রী খালেদা আরেক রাজাকার আল বদর নেতা নিজামী ও মুজাহিদ কে মন্ত্রী কওে স্বাধীনতার প্রতি অবমাননা করেছে এজন্য তার বিচার হওয়া উচিৎ। স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন জামাতে ইসলামী এখন স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি তাই অচিরেই তাদের নিষিদ্ধ করে দেয়া হবে।

৩০দশক আমরা এগুতে পারিনি। শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে ভিশন-২০২১ এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। বাংলাদেশকে আর কেউ দমিয়ে রাখতে পারবেনা। এদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে গড়তে সরকার কাজ করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের ৭০বছর পূর্তি উৎসব কমিটির আহবায়ক, লেখক ও কলামিস্ট অ্যাডভোকেট আনছার খাঁনের সভাপতিত্বে উৎসবে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- অ্যাডভোকেট আবু জহির এম.পি, আব্দুল মুনিম চৌধুরী বাবু এম.পি, অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান এম.পি, সায়রা মহসিন এম.পি, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এম.পি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক সদস্য ড. আতফুল হাই শিবলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়লের অতিরিক্ত সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বনমালী ভৌমিক, হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. মুশফিক আহমদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. লুৎফুল হাই জামী, রাজনীতিবীদ শাহনেওয়াজ মিলাদ গাজী, হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিউল আলম, নবিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী, জগন্নাথপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আকমল হোসেন, সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উৎসব উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আজিজুল হক শিবলী। স্কুল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজামুল ইসলাম। কোরআন তেলাওয়াত করেন নওশের খান শাহপরাণ ও গীতা পাঠ করেন ননী গোপাল।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- উৎসব উদযাপন কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও সিলেটের এপিপি অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান সেলিম, সামছুল কিবরিয়া চৌধুরী, মুনায়েম খান, শাহ মনসুর আলী নোমান, আবু ইয়াহইয়া মুজাহিদ, সিদ্দিকুর রহমান, সাবেক শিক্ষক শামসুল ইসলাম, শায়েস্তা মিয়া জায়গীরদার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আরো বলেন- হবিগঞ্জের শিক্ষার উন্নয়নে ইতোমধ্যে সরকার ৫০ কোটিরও বেশি টাকার কেবল ভবন নির্মাণে ব্যয় করেছে। ভবন নির্মাণ করলেই হবেনা, শিক্ষার্থীদেরকে ভালো ও আধুনিক শিক্ষায় দানের মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এদেশ থেকে ৫০হাজার মেট্রিক টন চাল শ্রীলংকায় রপ্তানি করা হয়েছে। দশ হাজার মেট্রিক টন চাল নেপালে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে দেয়া হয়েছে। বিদ্যুৎএ বিপ্লব ঘটেছে। একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

দীঘলবাক উচ্চ বিদ্যালয় একটি পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে তিনি এই প্রতিষ্ঠানকে কলেজ পর্যায়ে উন্নিত করার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম, পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র, সহকারী পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির, হবিগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুজাফফর হোসেন, নবীগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক গোলাম হোসেন আজাদ, ইনাতগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জিন্নাহ খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক আনোয়ারুল হক, স্থানীয় চেয়ারম্যান ছালেক মিয়া, সমাজসেবী শাহজাহান সিরাজ, রবিউল হাসান খান রাজু, আবুল কালাম ছোটনসহ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র-ছাত্রী ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল সাড়ে দশটায় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আসলে তাকে সালাম জানায় স্কাউট সদস্যরা। পরে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

বিকেলে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সাবেক শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন। পরে সন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় দিনব্যাপী পূনর্মিলন উৎসবের।