logo

ধন সম্পদে সবার উপরে সৌদি রাজপরিবার

ধন সম্পদে সবার উপরে সৌদি রাজপরিবার

ধনীদের সম্পদের সম্পদের পরিমাণ কত? এটা সাধারণ মানুষের কৌতুহলের অন্যতম বিষয়। আর ধনীরা কার থেকে কতো ধনী সেটা প্রকাশের ব্যাপারে বেশ উৎসুক। তাই বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বছর শেষে কিংবা কোনো বিশেষ দিন উপলক্ষে ধনীদের তালিকা প্রকাশ করে থাকে। এমন একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ইনসাইডার মাংকি।

প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পরিবারের তালিকা প্রকাশ করেছে। পরিবারের মোট সম্পদমূল্য ও কত দিন ধরে কী কী ব্যবসায় পরিবারগুলো জড়িত তার ভিত্তিতে তালিকা তৈরী করা হয়েছে।

১০. হার্স্ট পরিবার (যুক্তরাষ্ট্র) : কক্স পরিবারের মতো হার্স্ট পরিবারেরও আয়ের উৎসও গণমাধ্যম ব্যবসা। হার্স্ট পরিবারের সম্পদ রয়েছে ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলার। হার্স্ট করপোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম র‌্যানডলফ হার্স্ট যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক গণমাধ্যম ব্যবসার পথিকৃৎদের একজন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীন দৈনিক সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলসহ ৪৯টি দৈনিক ও ৩৪০টি ম্যাগাজিনে বিনিয়োগ আছে হার্স্ট পরিবারের। খেলাধুলার জন্য বিশ্বখ্যাত চ্যানেল ইএসপিএনেরও মালিক এই পরিবারটি।


৯. কক্স পরিবার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র): যুক্তরাষ্ট্রের কক্স পরিবারের অবস্থান নবম। তারা পেয়েছে ৩৫ পয়েন্ট। গণমাধ্যম ব্যবসাই পরিবারটির আয়ের মূল উৎস। কক্স পরিবারের মালিকানাধীন কক্স মিডিয়া গ্রুপ ও কক্স কমিউনিকেশন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ গণমাধ্যম গোষ্ঠী। এ পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার।


৮. বার্নার্ড আরনল্ট ও পরিবার (ফ্রান্স):  সারা বিশ্বে ৭০টির বেশি বিলাসবহুল ব্রান্ডের পণ্য বেচাকেনা করে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন ফ্রান্সের বার্নার্ড আরনল্ট ও তাঁর পরিবার। এ পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার।


৭. লিলিয়ার বেটেনকোর্ট ও পরিবার (ফ্রান্স) :  ফ্যাশন ও সৌন্দর্য প্রসাধনী পণ্যের বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড ল’রিয়েলের মালিক লিলিয়ান বেটেকোর্ট। তিনি ইউরোপের সবচেয়ে ধনী নারী। তাঁর পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ২৭০ কোটি ডলার। এই পরিবারটি পেয়েছে ৩৯ নম্বর।


৬. কারগিল-ম্যাকমিলান পরিবার (যুক্তরাষ্ট্র)
তালিকার ৬ নম্বর স্থান দখল করে আছে কারগিল-ম্যাকমিলান পরিবার। এ পরিবারে পেয়েছেন ৪০ নম্বর এবং সম্পদের পরিমাণ ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এককভাবে এই পরিবারটিতে ১৪ জন বিলিয়নিয়ার সদস্য আছেন। খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান কারগিল ইনকরপোরেশনের মালিক এ পরিবার।


৫. কার্লোস স্লিম হেলু ও পরিবার (মেক্সিকো): মেক্সিকোর কার্লোস স্লিম হেলু পরিবার ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ৫ম স্থান দখল করে আছে। মেক্সিকোর টেলিযোগাযোগ খাতের ডাকসাইটে ব্যবসায়ী কার্লোস স্লিম হেলু ও তাঁর পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭ হাজার ৭১০ কোটি ডলার। আমেরিকা মোভিল হেলু পরিবারের আয়ের মূল উৎস। এ ছাড়া চেইন রেস্তোরাঁ, এয়ারলাইনস, ব্যাংক, আবাসন, হোটেল, খনি, বিমা, সম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতের ২০০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক এই পরিবারটির আয়ের উৎসের অভাব নেই।


৪. মার্স পরিবার (যুক্তরাষ্ট্র): ক্যান্ডি ও চকলেট উৎপাদন করেই বিশ্বের চতুর্থ ধনী পরিবারের স্থান দখল করে আছেন মার্স পরিবার। এ পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার কোটি ডলার। মার্স বার, স্নিকারস, মিল্কি ওয়ের মতো বিশ্বখ্যাত চকলেট এই পরিবারের হাতেই তৈরি। ঘরে পোষা প্রাণীর খাবারের বিখ্যাত ব্র্যান্ড পেডিগ্রিও মার্স পরিবারের মালিকানাধীন।


৩. কচ ফ্যামিলি (যুক্তরাষ্ট্র): মোট ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থান দখল করে আছে যুক্তরাষ্ট্রের কচ পরিবার। তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। কচ পরিবারের আয়ের উৎসের মধ্যে তেল, রিফাইনারি, উৎপাদন, বিনিয়োগ খাতগুলো অন্যতম। পরিবারটির মালিকানাধীন কচ ইন্ডাস্ট্রিজ যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের দ্বিতীয় বৃহৎ করপোরেট প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সব সময়ই প্রার্থীদের বিশাল অঙ্কের চাঁদা দিয়ে থাকে কচ পরিবার।


২. ওয়ালটন পরিবার (যুক্তরাষ্ট্র): পরের স্থানে অর্থাৎ তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ওয়াল্টন পরিবার। তারা পেয়েছে ৪৮ পয়েন্ট। এ পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ১৪৯ বিলিয়ন বা ১৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সুপার চেইনশপ ওয়ালমার্টই পরিবারটির আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বের ২৭টি দেশে ওয়ালমার্টের ৫ হাজার ৬৫১টি বিক্রয়কেন্দ্র আছে, যেখানে কর্মরত ১৫ লাখের বেশি মানুষ।


১. আল সৌদ রাজপরিবার (সৌদি আরব): তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে সৌদি রাজপরিবার। ইনসাইডার মাংকির হিসেবে তারা ৫০ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। সৌদি রাজ পরিবার অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে সৌদি আরব শাসন করছে। যাদের আল সৌদ নামে ডাকা হয়। আল সৌদের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ ১. ৪ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। অসংখ্য স্থাবর সম্পদ, তেলের খনি, বড় বড় ব্যবসায়িক চুক্তি থেকে শুরু করে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সবকিছু থেকেই আয় করে এই রাজপরিবার।