logo

নিউইয়র্কে মুসলমানদের ধর্মীয় কাজে পুলিশের হস্তক্ষেপ বন্ধ হচ্ছে

নিউইয়র্কে মুসলমানদের ধর্মীয় কাজে পুলিশের হস্তক্ষেপ বন্ধ হচ্ছে

নিউইয়র্ক, ০৯ জানুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক কাজের ওপর টার্গেট করলে পুলিশকে তার জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার ম্যানহাটনের ফেডারেল কোর্টের বিচারক চার্লস হেইটের এজলাসে সম্পাদিত এক সমঝোতা অনুযায়ী নিউইয়র্ক পুলিশের নজরদারি প্রক্রিয়ার তদারকির জন্য স্বাধীন একজন আইনজীবী নিয়োগ করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

নিউইয়র্ক পুলিশ নিরাপত্তার অজুহাতে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, মসজিদগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি, মুসল্লিদের গতিবিধি মনিটরিং, স্কুল-কলেজগামী মুসলমান শিক্ষার্থীসহ মুসলমানদের সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের ওপর নজরদারি করে আসছিল। এ ঘটনাকে নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি হিসেবে ঘোষণার দাবিতে আমেরিকান সিভিল রাইটস ইউনিয়ন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ২০১১ সালে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছিল ফেডারেল কোর্টে।

যেকোন ধরনের তদন্তের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হবে না-এমন প্রক্রিয়া অবলম্বন করবে নিউইয়র্কের পুলিশ। উপরোক্ত সমঝোতায় সেটিও স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর নাগরিকদের ধর্মীয় অধিকার সমুন্নত রাখার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রদত্ত বিধি অনুযায়ী এ ধরনের ব্যবস্থা ১৯৮৫ সাল থেকে চালু ছিল। কিন্তু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে সন্ত্রাসী হামলার পর তা বাতিল করা হয়।

ডিসেম্বর ২০১৫ বাংলাদেশিদের পরিচালনাধীন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে মুসলমানদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিও অঙ্গিকার করেছিলেন, মুসলমানসহ কোন ধর্মীয় সম্প্রদায়কেই অযথা হয়রানি করা হবে না বা বিশেষ কোন নজরদারিতে রাখা হবে না। এ সমঝোতার প্রক্রিয়া সে বিষয়টিও প্রভাব ফেলেছে বলে অনেকে মনে করছেন। ফেডারেল কোর্টে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী কারো বিরুদ্ধে যেকোনো কারণে তদন্ত করতে তার সময়সীমা বেধে দিতে হবে এবং বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে ধর্ম অথবা বর্ণের কারণে কাউকে টার্গেট করা যাবে না। এমন কিছু করা হলে তা হবে বেআইনি। 

২০০৭ সালে নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ‘ধর্মীয় উগ্রপন্থি’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন তাদের ওয়েবসাইটে রেখেছে, সেটি সরিয়ে ফেলতে হবে। বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ যখন আরো বেশী সজাগ থাকার বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করছে, ঠিক সে সময়ে নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন কর্তৃক এ ধরনের সমঝোতার ঘটনায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে মার্কিন মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে। যদিও এই সমঝোতার পর নিউইয়র্ক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মামলা দায়েরকারী নাগরিক অধিকার সংগঠক-সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই সমঝোতার ফলে সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে অনুসন্ধানকালে কোন নাগরিকেরই ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও জাতিগত অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে না মনে করছেন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের এটর্নি হিনা সামসী।