logo

অর্থনীতিকে গ্রাস করছে চোরাচালান: প্রধান বিচারপতি

অর্থনীতিকে গ্রাস করছে চোরাচালান: প্রধান বিচারপতি

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি- দেশের সীমান্ত এলাকার চোরাচালান পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরে অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। শুক্রবার ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির অভিষেক ও বিশেষ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।


সীমান্তবর্তী জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চোরাচালানের কথা তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, “এটা আমাদের খুব পীড়া দেয়। শাড়ি স্মাগলিংয়ের জন্য এটা ফ্রন্ট এরিয়া। ভারতীয় একটা উন্নতমানের শাড়ি ভারতের চেয়ে কম দামে পাওয়া যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি। “প্রধান বিচারপতি হিসেবে প্রত্যেকটা অঞ্চলের খুঁটিনাটি আমি জানি- সেই ডেটা নিয়ে বলছি। আমাদের অর্থনীতিকে গ্রাস করে নিচ্ছে এই চোরাচালান।”

সম্মেলনে উপস্থিতি সবাইকে চোরাচালান প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “স্বর্ণ-ডলার পাচার হচ্ছে, ফেন্সিডিল-শাড়ি আসছে। দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। সময় এসেছে এগুলো প্রতিরোধ করার।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রামে গ্রামে দ্বন্দ্বের ঘটনা তুলে ধরে সেসব নিরসনে স্থানীয় সাংসদদের ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন প্রধান বিচারপতি।

পাশাপাশি দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশ, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গুণীজনদের অবদান তিনি তুলে ধরেন।
গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অর্থনীতিকে গতিময় করেছে মন্তব্য করে এস কে সিনহা বলেন, “অর্থনীতির দিক দিয়ে সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে এই জেলা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া দেশের জন্য মডেল ও অগ্রসরমান অঞ্চল হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।” সমিতির সভাপতি সাংসদ র আ ম উবায়দুল মুক্তাদিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

‘বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন’
‘বিচারহীনতা’র জন্য বাংলাদেশকে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে মন্তব্য করে বিচারপতি সিনহা বলেন, “অপরাধের কোনো বর্ণ-গোত্র নেই, এদেশে এক সময় বিচারহীনতার রেওয়াজ ছিল, যার জন্য অনেক মূল্য দিতে হয়েছে।

“আজ বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন, আমরা দৃষ্টান্ত রাখতে সক্ষম হয়েছি।” আপসের নামে যেন বিচার বিলম্বিত না হয় সে বিষয়ে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অন্যায়ের যেন প্রতিকার হয়, সেটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি রোধ করে আইনের শাসনকে শক্তিশালী করতে হবে।”