logo

নিজামীর ফাঁসির রায়ে পাকিস্তান জামায়াতের ক্ষোভ

নিজামীর ফাঁসির রায়ে পাকিস্তান জামায়াতের ক্ষোভ

ইসলামাবাদ, ০৮ জানুয়ারি- যুদ্ধাপরাধ মামলার চূড়ান্ত রায়ে বাংলাদেশে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির আদেশের পর বরাবরের মতোই যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের প্রমাণ রেখে বিক্ষোভ করেছে পাকিস্তান জামায়াত।

বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে পাকিস্তান জামায়াতের ছাত্র সংগঠন জমিয়তে তলাবার ব্যানারে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে দলের সেক্রেটারি জেনারেল লিয়াকত বালুচ নিজামীর ফাঁসির দণ্ডের নিন্দা জানান। পাকিস্তান জামায়াতের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বালুচের ওই বক্তব্য দেশটির গণমাধ্যমেও এসেছে।

লিয়াকত বালুচ বলেন, “নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে তা হবে ন্যায়বিচারের হত্যাকাণ্ড। শেখ হাসিনা ওয়াজেদের সরকার ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে বিরোধীদের নির্মূলের চেষ্টা চালাচ্ছে। “ভারত সরকারের আদেশে বাংলাদেশ সরকার জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।”

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে দেড় বছর আগে নিজামীর ফাঁসির রায় দিয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত বুধবার আপিল বিভাগ সেই সাজাই বহাল রাখে।

জামায়াত আমির নিজামী একাত্তরে ছিলেন দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নাজিমে আলা বা সভাপতি এবং সেই সূত্রে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আল বদর বাহিনীর প্রধান।

স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর দমন-পীড়ন চালাতে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটিতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে এ মামলার বিচারে উঠে আসে।

ইসলামাবাদের সমাবেশে পাকিস্তান জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতা জুবায়ের হাফিজ বলেন, “নিজামীর মৃতুদণ্ডের আদেশ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তাই জাতিসংঘের উচিত বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে জবাব চাওয়া।” বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আবপারা চকে জমিয়তে তলাবার ওই বিক্ষোভে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে ‘নিজামীর জন্য ন্যায়বিচার’ এর দাবি জানান নেতাকর্মীরা। পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নাফিসা খাত্তাক ও মিয়া আসলামও তাতে অংশ নেন।

এর আগে যুদ্ধাপরাধের বিচারে জামায়াত নেতাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিটি ঘটনার পর একই প্রতিক্রিয়া দেখায় পাকিস্তান জামায়াত। যুদ্ধাপরাধীদের গুরু গোলাম আযমের আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ের পরও তারা বিক্ষোভ দেখায়।

গত নভেম্বরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাকিস্তানের সরকারি পর্যায় থেকেও উদ্বেগ আসে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়ার পর ঢাকায় তাদের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ সরকার।   

এর আগে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসির পর পাকিস্তান পার্লামেন্টে একটি নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়, যাতে জামায়াতের চাপ ছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে জামায়াতসহ ইসলামী নিষিদ্ধ হলেও পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এ দেশের রাজনীতিতে পুর্নবাসিত হয় দলটি। নিজামী পরে বাংলাদেশের মন্ত্রীও হন।

একাত্তরের ভূমিকার জন্য দলটি কখনও ক্ষমা চায়নি, বরং জামায়াত নেতারা দম্ভের সঙ্গে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের অবস্থান ‘সঠিক’ ছিল।