logo

পঁচিশের আগেই মিলিয়নিয়ার হলে জীবনটা কেমন হয়?

পঁচিশের আগেই মিলিয়নিয়ার হলে জীবনটা কেমন হয়?

সবাই মার্ক জাকারবার্গ হতে পারেন না। মাত্র ২৩ বছর বয়সে বিলিয়নিয়ার হওয়া বলে কথা। তবে এমন অনেক তরুণ-তরুণি আছেন যারা ২৫ বছর বয়সের আগেই মিলিয়নিয়ার হয়ে গেছেন। এত কম বয়সে নিজের প্রচেষ্টায় ধনী হলে জীবনটা কিভাবে বদলে যায়? এর অনুভূতি কি? এসব অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ৮ জন মিলিয়নিয়ার। এরা সবাই ২৫-এর আগেই মিলিয়নিয়ার হয়েছেন।

১. সহপাঠিদের মধ্যে মিলিয়নিয়ার হলে ভালো সুবিধা মেলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে। এত কম বয়সে সফলতা অর্জন করায় তাদের দৃষ্টিভঙ্গিটাও ভিন্ন থাকে। ইচ্ছা করলেই প্রজেক্টের ডেট এড়ানো যায়। যেকোনো সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে ছুটি নেওয়া যায়।

২. ব্যাংকে গেলে রীতিমতো জিজ্ঞাসাবাদের শিকার হতে হয়। আপনি কি করেন? কিভাবে এত অর্থ আয় করলেন? ইত্যাদি নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।

৩. সঠিক স্থানে পয়সা খরচ করতে চান। অঢেল অর্থ থাকলেও কেউ খরচে ভুল করতে চান না। কিন্তু কম বয়সী মিলিওনিয়াররা বিলাসীতায় ভেসে মাঝে মধ্যে ভুল করেই ফেলেন। কিন্তু এতে তেমন মানসিক চাপে থাকেন না।

৪. অনেক ক্ষেত্রেই সময় হয়ে ওঠে শত্রু। তরুণ মিলিয়নিয়াররা মজা করতে প্রাইভেট জেট ভাড়া করেন না। তবে সময় বাঁচাতে এটা খুবই জরুরি। অথচ মন না চাইলেও এখানে অনেক টাকার অপচয় ঘটলো।

৫. ধনী হওয়ার পর বিমানের বিজনেস ক্লাসে চড়লে অন্যরকম মনে হবে। কিন্তু পরে এটাও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। কিন্তু এরপর হঠাৎ করে ইকোনমি ক্লাসে চড়লে তা নরক বলেই মনে হয়।

৬. তরুণ মিলিয়নিয়াররা মন খুলে কিছু অর্থ বিভিন্ন চ্যারিটিতে প্রদান করতে পারেন। যে অর্থ আয় হয়েছে তা খাটিয়ে আরো অর্থ আসছে বা আসবে। সেখান থেকে প্রায় সময় জনকল্যাণমূলক কাজে অর্থ দিলে আত্মতৃপ্তি আসে।

৭. বিত্তবান হওয়ার পর অনেক নতুন নতুন বন্ধ আসবে জীবনে। তাদের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। সময় অনেক উপভোগ্য হয়ে ওঠে। তা ছাড়া চারপাশে আরো বহু মানুষের আনাগোনা দেখা যায়। এরা কেউ পরিবার বা আত্মীয় নন।

৮. জীবনের যত শখ ছিল, তার সবই পূরণ হতে পারে। বিভিন্ন দেশে ঘোরাঘুরি, সুপারবোল দেখা, পাঁচ তারকা হোটেলে ডিনার ইত্যাদি সবই সম্ভব।

৯. আবার এমন কিছু শখ থাকে যা পূরণে বেশি অর্থের প্রয়োজন পড়ে না। আগের অবস্থাতেই এগুলো পূরণ করা সম্ভব। অথচ ধনী হওয়ার পর বাড়তি ঝামেলা চারপাশে যোগ হয়। তখন প্রায় মনে হয়, আগের দরিদ্র অবস্থাই ভালো।

১০. অনেক জায়গায় অস্বস্তিকর মন্তব্য ও পরিস্থিতির শিকার হতে হবে। ট্যাক্সি ড্রাইভার ধনীদের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করলে ভালো লাগবে না। পর্যটকদের একটি দলের সঙ্গে গেলে তারা হয়তো সবাই সস্তাদরের কোনো হোটেলে উঠবে। তখনও ভালো লাগবে না।

১১. এ সময় বিয়ে করে দুই-একটা সন্তান নিতে তেমন দুশ্চিন্তা আসে না। এ ক্ষেত্রে সংসারটাকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে নেওয়া যায়।

১২. বহু দামি একটা গাড়ি কিনতে মন চাইতেই পারে। কিন্তু এ গাড়ি দিয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব জাহির করা যায় না। তরুণ ধনীরা তা করতেও চান না। তা ছাড়া এসব গাড়ির পেছনে যে খরচ তার কথা মাথায় রাখতে হয়।

১৩. যে অর্থ কামিয়েছেন তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে সারাজীবন চিন্তা করতে হবে না। ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করুন এবং সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

১৪. বয়স কম, কিন্তু অর্থ আছে যথেষ্ট। আপনি হয়তো একা। এই একাকীত্ব দারুণ উপভোগ্য হয়ে উঠেছে অর্থের বদৌলতে।

১৫. তরুণ ধনীরা সত্যিই ভাবতে পারেন, বাকি জীবনটা কিভাবে কাটানো যায়? এ ক্ষেত্রে তারা মনের মতো করে জীবন কাটাতে সামর্থবান হয়ে ওঠেন। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার