logo

হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষা: কোরিয়ার গর্ব, বিশ্বের শঙ্কা

হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষা: কোরিয়ার গর্ব, বিশ্বের শঙ্কা

পিয়ংইয়াং, ০৮ জানুয়ারী- উত্তর কোরিয়া কি আদৌ হাইড্রোজেন বোমা ফাটিয়েছে? না মনে হয়। কিংবা হতেও পারে। বিশ্বের অনেকে নামিদামী বিশেষজ্ঞরা এখনো ঠিক এরকমই সংশয় প্রকাশ করেছেন। কিন্তু যে যাই বলুক না কেন, উত্তর কোরিয়া কিন্তু গর্বিত।

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়াং এর একমাত্র মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে এমন তথ্য। তারা বলেন, উত্তর কোরিয়ার হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সেখানে ছড়িয়ে পড়েছে জাতীয় গর্ববোধ। কোরিয়ায় কর্তৃপক্ষ সিএনএন সাংবাদিকদের গবেষণা কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন আজকে। সেখানে গবেষণার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা গোটা জিনিসটা ব্যাখ্যা করবেন তাদের কাছে যাতে গোটা বিশ্বের সংশয় দূর হয়।


উত্তর কোরিয়ার এই ঘোষণা ইতিমধ্যেই চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে তাদের সাপে নেউলে সম্পর্ক। দুই দেশের সীমান্তে সেনাবাহিনীর তৎপরতা আগেও বেশি ছিল, এখন যেন তারা রীতিমত ফুঁসছে। বুধবার উত্তর কোরিয়ার বোমা পরীক্ষার ঘোষণার সাথে সাথে দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে তারা সীমান্তে লাউড স্পিকারে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাবে। উত্তর কোরিয়া ও ছেড়ে দেয়ার পাত্র নয়। তারা এটাকে যুদ্ধের হুমকি ধরে নিয়ে পাল্টা গুলি বর্ষণ করেছে।  

উত্তর কোরিয়ার বাইরে অবশ্য হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার দাবি নিয়ে চলছে সন্দেহ এবং জল্পনা কল্পনা। লন্ডন কিংস কলেজের একজন সামরিক বিশেষজ্ঞ মার্টিন নাভিয়াস বলেছেন, ‘আমরা হয়তো আরও কয়েকদিন কিংবা এক সপ্তাহ পর্যন্ত নিশ্চিত হয়ে বলতে পারবো না যে বিস্ফোরিত বোমাটি আদৌ হাইড্রোজেন বোমা ছিল কিনা? তবে বিস্ফোরণের মাত্রা থেকে মনে হয় নি এটা হাইড্রোজেন বোমা ছিল।’   


যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও জাপান ইতিমধ্যে ভূমিতে রেডিয়েশানের মাত্রা পরীক্ষা করতে শুরু করে দিয়েছে। অথচ অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে, সফল বোমা পরীক্ষার ২৪ ঘণ্টা পরে যখন উত্তর কোরিয়া ঘোষণা দেয় তখন আশেপাশের যারা প্রতিবেশী ছিল তারা কেউই রেডিয়েশানের কোন প্রমাণ পান নি। জাপানের পারমাণবিক এবং রাসায়নিক বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই সেখানকার মাটি পরীক্ষা করে দেখেছেন কিন্তু পরিবেশে কোনো পরিবর্তন খুঁজে পাননি। এমনকি চীনা বিশ্লেষকরাও বলেছেন, রেডিয়েশান মাত্রায় কোনো পরিবর্তন তারা খুঁজে পাননি।


আশা করা যাচ্ছে, খুব শিগগিরই এই সন্দেহের মুক্তি ঘটবে। উত্তর কোরিয়া যদি নিজে থেকে সাংবাদিকদের গবেষণা কেন্দ্রে নিয়ে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করতে দেয় সেক্ষেত্রে সবাই নিশ্চিত হতে পারবে। তবে যদি নিশ্চিত হওয়া যায়ও, তাতে উদ্বেগ আরও বেড়ে যাবে। উত্তর কোরিয়ার হাতে হাইড্রোজেন বোমা উদ্বেগের বিষয়। দেশটি আন্তর্জাতিক মহল থেকে এমনিতেই বিচ্ছিন্ন এবং পূর্বে তারা অনেকবার হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এরকম মারাত্মক অস্ত্র হাতে থাকলে তারা না জানি পরবর্তীতে কি বিপত্তি ডেকে আনে বিশ্বের জন্য?