logo

গাড়ি চলে বায়োগ্যাসে

ইলিয়াস আরাফাত


গাড়ি চলে বায়োগ্যাসে

তিনি যে গাড়ি চালান তা চলে নিজের প্লান্টের বায়োগ্যাসে। বাড়ির রান্না হয় সিলিন্ডারের বায়োগ্যাসে। তিনি তার প্লান্টের গ্যাস বাণিজ্যিকভাবে সিলিন্ডারজাত করার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী সরকারে কাছে অনুমতির জন্য আবেদন করেন।

তবে তার স্বপ্নের নৌকা নদীতে নেয়া সম্ভব হয়নি। সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথারিটি (সেডা) তার সিলিন্ডারজাত গ্যাস গাড়িতে ব্যবহারের আবেদনে সাড়া দেয়নি। তবে তাকে পুরোপুরি নিরাশ করেনি। তাকে বায়োগ্যাস সিলিন্ডরজাত গ্যাস বাসা বাড়িতে ব্যবহার করার অনুমুতি দেয়া হয়েছে। সেটা তিনি বাণিজ্যিকভাবেও করতে পারবেন। এর জন্য সর্বশেষ বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ কাজ শুরুর জন্য ইতোমধ্যে সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। এতোক্ষণ যার কথা বলা হলো তিনি প্রকৌশলী আব্দুস সালাম।

পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার সালাম প্রতিষ্ঠা করেছেন এমএএস বায়োমিথেন ফিলিং স্টেশন। শুরুটা ছিল ২০০৯ সালে। স্বস্থি ডেয়রি ফার্ম ১২টি গরু দিয়ে শুরু করেন। ছয় বিঘা জমির ওপর তার এই খামরটি পুঠিয়ার বেলপুকুরের ভাংড়া গ্রামে। গরুর গোবর থেকে পরবর্তীতে তিনি বায়োগ্যাসের প্লান্ট স্থাপন করেন। এখান থেকে খামারের জ্বালানি হিসেবে বায়োগ্যাস ব্যবহৃত হয়। এই জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেন প্রকৌশলী সালাম।

গ্যাস সিলিন্ডারজাত করার চিন্তা আসে তার মাথায়। ব্যক্তি উদ্যোগে নিজের গাড়ি চালাচ্ছেন কমপ্রেস্ড বায়োগ্যাস বা সিবিজিতে।
 
তিনি ব্যাংক ঋণের চেষ্টা করেন। তবে সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অথারিটি (সেডা) এর অনুমতি দেখাতে বলে। তবে তার সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা। তারা প্রকৌশলী সালামকে একটি প্রকল্প দাখিল করতে বলে। সেটি অনুমোদিত হয়েছে। ১৫ লাখ টাকার এই প্রকল্প অচিরেই কাজ শুরু করবে। বর্জ্য থেকে কমপ্রেস্ড বায়োগ্যাস বা সিবিজি উৎপাদন এবং বাজারজাত করা হবে।

এছাড়া তিনি আরডিএ বা পল্লী উন্নয়ন একাডেমির কাছে বড় প্রকল্পের জন্য একটি আবেদন করেছেন। ৭০ লাখ টাকার এই প্রকল্পে প্রতিদিন ২০০ কিউবিক লিটার গ্যাস উৎপন্ন হবে। এর সঙ্গে পাওয়া যাবে ২০ টন জৈব সার এবং দেড় টন জৈব কীটনাশক।

তার খামারে বর্তমানে মোট ৫১টি গরু রয়েছে। এক সময় এই সংখ্যা দাঁড়ায়েছিল ১৩০টিতে। কিছু গরু বিক্রি করে দেয়া হয়। তার গরুগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪টি দুধেল গাই। ২৪টি হাইপার বোকন। গাভিন (গর্ভবতী গরু) রয়েছে ১২টি। ষাঁড় রয়েছে একটি। এসব গরু থেকে দুধ আসে ২০০ থেকে ২৫০ লিটার।
 
তার প্ল্যান্ট থেকে যে গোবর হয় তা দিয়ে তার বায়োগ্যাসের প্লান্ট চলে না। এজন্য তাকে বাইরে থেকে আরো গোবর কিনতে হয়। তার প্লান্টের জন্য প্রায় চার টন গোবর লাগে। দুই টন গোবর কিনতে হয় কেজি প্রতি একটাকা দরে।
 
তার প্লান্টে এক কেজি গোবর থেকে .০৩৬ কিউবিক মিটার গ্যাস উৎপন্ন হয়। মুরগির বিষ্ঠা যদি দেয়া হয় তবে এই উৎপাদন হয় ০.০৭২ কিউবিক মিটার গ্যাস উৎপাদিত হয়। চার টন গোবর থেকে পাওয়া যায় ১২০ কিউবিক মিটার বায়োগ্যাস পাওয়া যায়। এছাড়া পাওয়া যায় এক টন জৈব সার। সার বিক্রি হয় সাড়ে সাত হাজার টাকা টন দরে। এছাড়া ৫০০ লিটার জৈব কীটনাশক পাওয়া যায়। পাঁচ টাকা লিটার দরে বিক্রি হয় ২৫০০ টাকা দরে। তার খামারে বর্তমানে কাজ করছে ১২ জন কর্মচারী।
 
গ্যাস রিফাইন করে কার্বন, সালফার আলাদা করে সিলিন্ডারজাত করা হয়। রিফাইন্ড গ্যাস বাজারজাত করার জন্য তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি কমিশনে অবেদন করেন। তবে তাকে এর জন্য অনুমুতি দেয়া হয় নি। তাকে বাড়ি বাড়ি সরবরাহের জন্য অনুমুতি দেয়া হয়েছে। তবে তিনি সিবিজি বা কমপ্রেস্ড বায়োগ্যাস নিজের গাড়িতে ব্যবহার করছেন। তার গাড়ি ভালোই চলছে বলে জানালেন তিনি।
   
প্রকৌশলী আব্দুস সালাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের সাব অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ার নকশা পদে কর্মরত। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়ামে গৃহনকশা ও নির্মাণ নামে একটি ফার্ম রয়েছে। এখানে মূলত গৃহ নির্মাণ সংক্রান্ত সহয়তা প্রদান করে থাকে। সব শেষে জানালেন এ জাতীয় প্লান্টের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।