logo

দুর্ভাগা শরণার্থীদের জন্য ‘নির্জন দ্বীপ’

এজাজ কাদরী


দুর্ভাগা শরণার্থীদের জন্য ‘নির্জন দ্বীপ’

ইজমির, ০৮ জানুয়ারী- তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইজমিরের একটি কবরস্থানের নাম দেয়া হয়েছে ‘নির্জন দ্বীপ’। ভৌগোলিক সংজ্ঞায় দ্বীপ না হলেও আপেক্ষিক দৃষ্টিতে দ্বীপের মতোই এই জায়গাটি আসলে ইউরোপ স্বপ্নযাত্রায় সাগরে ডুবে মারা যাওয়া শত শত অভাগা লাশের কবরস্থান এটি।

গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে কিংবা একটু উন্নত জীবনের আশায় নিজ নিজ দেশ ছেড়ে ইউরোপের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো অভাগাদের লাশ শনাক্ত করতে না পেরে অথবা শনাক্ত করা লাশের দাবিদার না থাকায় সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে এখানেই দাফন করে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ট সিরীয় ছাড়াও আফগান, আফ্রিকান ও এশিয়ার নানা দেশ থেকে আসা মানুষের লাশ দাফন করা হয়েছে এখানে।


শুধু ২০১৫ সালে তুরস্কের সমুদ্রসীমা ব্যবহার করে ইউরোপে পাড়ি জমানো প্রায় ৮ লাখ শরণার্থী তুরস্কের সাগর পেরিয়ে গ্রিসের উপকূলে পৌঁছেছে। এদের মাঝে দুর্ঘটনায় নৌকা ডুবে তুর্কি কোস্ট গার্ডের সাহায্যে প্রায় ৯০ হাজার জীবিত উদ্ধার হলেও মারা গেছে এক হাজারের বেশি যাত্রী। এ ধরনের দুর্ঘটনায় এ যাবৎকালে মোট মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার বলে জানিয়েছে তুর্কি কোস্ট গার্ড।

স্থানীয় প্রশাসন প্রতিটি দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ উদ্ধারের পর দাবিদারদের কাছে লাশ হস্তান্তর করে থাকে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেওয়ারিশ লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ১৫ দিন মর্গে রাখার নিয়ম আছে তাদের। এরপর ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে দাফন করা হয় ‘নির্জন দ্বীপ’-এ।

তুরস্কের আর সব সাধারণ কবরের মতো সমাধিপ্রস্তর নেই এখানে। প্রতিটি কবরের সাথে কাঠি, লাঠি কিংবা অন্য কোনো উপায়ে শুধু বেঁধে দেয়া হয় ডিএনএ নমুনার নম্বর।