logo

দেশে খর্বকায় শিশুর হার বেশি সিলেট বিভাগে

দেশে খর্বকায় শিশুর হার বেশি সিলেট বিভাগে

ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি- রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, বৃহত্তর সিলেট এলাকায় খর্বকায় শিশুর হার সবচেয়ে বেশি। এই বিভাগে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৫০ শতাংশ অর্থাৎ​ অর্ধেক শিশুর উচ্চতা বয়সের তুলনায় কম। খর্বকায় শিশুর হার সবচেয়ে কম খুলনা বিভাগে। এই বিভাগে ২৮ শতাংশ শিশু খর্বকায়। আর জাতীয়ভাবে খর্বকায় শিশুর হার ৩৬ শতাংশ।

আজ বৃহস্পতিবার ডেইলি স্টার ভবনে যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে সেভ দ্য চিলড্রেন, যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান চিলড্রেনস ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ফাউন্ডেশন ​এবং হেলথ প্রাইয়র ২১ লিমিটেড। ২০১৪ সালে ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক পুষ্টি সম্মেলনে (আইসিএন ২) গৃহীত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে বাস্তবায়নের পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপনায় বলা হয়, দেশে খর্বকায় শিশুর হার কমছে। ২০০৪ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৫১ শতাংশ শিশু ছিল খর্বকায়। বর্তমানে সেই হার ৩৬ শতাংশ। তবে সমাজের সব স্তরে বা দেশের সব জায়গায় খর্বকায় শিশুর হার এক নয়। সমাজের সবচেয়ে উচ্চবিত্ত শ্রেণির ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের ২১ শতাংশ খর্বকায়। আর সবচেয়ে নিম্নবিত্ত শ্রেণির ৫০ শতাংশ শিশু খর্বকায়। উপস্থাপনায় দেখা গেছে পদ্মার চরে, শহরের বস্তিতে স্বাভাবিকের চেয়ে অপুষ্টির হার বেশি। অন্যদিকে শিক্ষিত মায়ের শিশুর তুলনায় নিরক্ষর মায়ের শিশুরা বেশি অপুষ্টিতে ভোগে।

বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ সুলতানা খানম বলেন, ২০১৪ সালে রোমে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক পুষ্টি সম্মেলনে ৬০ দফা কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এত দিনে কী কাজ করেছে তা জানার জন্য এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সম্মেলনের পর এই ধরনের আয়োজন এটাই প্রথম।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জনস্বাস্থ্য ও বিশ্বস্বাস্থ্য) রোকসানা কাদের বলেন, আন্তর্জাতিক পুষ্টি সম্মেলনের পর জাতীয় পুষ্টিনীতি মন্ত্রিসভায় পাশ হয়েছে। বহুদিন নিষ্ক্রিয় থাকা জাতীয় পুষ্টি পরিষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া পুষ্টিনীতির আলোকে জাতীয় পুষ্টি কর্মকৌশল তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে নেওয়া পুষ্টি সম্পর্কিত কাজের নানা হিসাব তুলে ধরে মন্ত্রণালয়ের পুষ্টিবিদ নাসরীন খান বলেন, পুষ্টির উন্নতির জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও খাতের কাজ সমন্বয় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শহর এলাকাতে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি দরকার।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, খাদ্যের মান ভালো রাখা—পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি করতে এ রকম অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকারের কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়। মানসম্পন্ন ও পুষ্টিকর খাদ্য খাওয়ার ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ‘খাদ্য নির্দেশিকা’ও তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ছাঁটাইয়ের সময় চাল যেন নষ্ট না হয় এমন প্রযুক্তি মিল মালিকদের সরবরাহ করছে সরকার।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিনিধি নওকি মিনামিগুচি বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পুষ্টি সম্পর্কিত নানা কাজে তাঁরা কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক পুষ্টি সম্মেলনের গৃহীত সিদ্ধান্তে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) বিশেষ ভূমিকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সেমিনারে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। সংস্থার পক্ষে কোনো বক্তব্যও ছিল না।