logo

সিলেটে বেপরোয়া ছাত্রলীগ, বিব্রত আওয়ামী লীগ 

সিলেটে বেপরোয়া ছাত্রলীগ, বিব্রত আওয়ামী লীগ 

সিলেট, ০৮ জানুয়ারি- সিলেটে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠছে ছাত্রলীগ। কমিটি নিয়ে বিরোধ, এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার, ভাগবাটোয়ারাসহ নানা অপকর্ম নিয়ে বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের লাগাতার অপকর্মে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এসব অপকর্মের পেছনে কতিপয় নেতার মদদ থাকায় সিলেট আওয়ামী  লীগের শীর্ষ নেতারা ছাত্রলীগের লাগাম ধরতে পারছেন না। ফলে ছাত্রলীগকে নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ধারস্থ হতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে।

গত সোমবার ছিল ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ও বিদ্রোহী পক্ষ। একই স্থান ও সময়ে উভয় পক্ষ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ নেতারা রবিবার বৈঠকে বসেন। পরে আওয়ামী লীগ নেতাদের পরামর্শে পুলিশের পক্ষ থেকে কমিটি প্রত্যাখানকারী বিদ্রোহী পক্ষের নেতাকর্মীদের নগরীর কোথাও মিছিল-সমাবেশ না করার নির্দেশ দেয়া হয়। জেলা ছাত্রলীগের কমিটি পক্ষের নেতাকর্মীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা শেষ করে ফেরার পথে রিকাবিবাজারে বিদ্রোহী গ্র“পের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এসময় অন্তত ১০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা একঘন্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

গত ২ জানুয়ারি অভ্যন্তরিণ কোন্দলের জের ধরে নগরীর মেজরটিলায় কমিটি পক্ষের এক নেতাকে কুপিয়ে আহত করে বিদ্রোহী পক্ষের নেতাকর্মীরা। এর জের ধরে মেজরটিলায় ছাত্রলীগের বিদ্রোহী পক্ষের আস্তানায় হামলা চালায় কমিটি পক্ষ। এসময় একটি সুপারশপ, দুইটি ব্যাংক ও একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একই দিন জুয়ার টাকার ভাগবাটোয়ার নিয়ে শহরতলীর বালুচরে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিরণ মাহমুদ নিপু এবং কথিত যুব শ্রমিকলীগ নেতা সবুজ গ্র“পের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৬ জন আহত হন।  এর আগে গত ১৮ অক্টোবর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে টিলাগড়ে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এম. রায়হান চৌধুরীর উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ গ্র“পের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের তিন নেতাকে বহিস্কার করা হয়।

সিলেটে ছাত্রলীগ এতোটাই বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে যে, রাজপথে তাদেরকে নিরাপদ মনে করছেন না খোদ আওয়ামী লীগ নেতারা। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রলীগের উপর শর্তারোপ করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যতিত আর কেউ ফুল দেয়ার জন্য শহীদ মিনারে যেতে বারণ করা হয়। আওয়ামী লীগের এই নির্দেশ মেনে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাই কেবল শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহরীয়ার আলম সামাদ বলেন, ‘যারা ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর, লুটপাট ও সন্ত্রাস করছে তারা মুজিব আদর্শের সৈনিক নয়। কমিটির পদবীধারী কারো বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ পাওয়া গেলে কেন্দ্রকে অবগত করা হচ্ছে। কেন্দ্র থেকে ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়।’