logo

চীনা মুদ্রার অবমূল্যায়নে অস্থির বিশ্ববাজার

চীনা মুদ্রার অবমূল্যায়নে অস্থির বিশ্ববাজার

বেইজিং, ০৭ জানুয়ারি- চীন সরকারের মুদ্রা নীতি বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক ধরিয়ে দেওয়ার পর পতনের ধারায় সার্কিট ব্রেকারে আটকে বন্ধ হয়ে গেছে দেশটির পুঁজিবাজারের লেনদেন। এই অস্থিরতার ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। একদিকে ইউরোপের শেয়ার বাজার সূচক হারিয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নেমে এসেছে ব্যারেল প্রতি ৩৩ ডলারের নিচে।    

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা  হয়, চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৃহস্পতিবার টানা অষ্টম দিনের মতো ইউয়ানের বিনিময় হার কমিয়ে আনায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।

বাজারকে চমকে দিয়ে পিপলস ব্যাংক অব চায়না প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৬ দশমিক ৫৬৪৬ ইউয়ানে নামিয়ে আনে, যা ২০১১ সালের পর সর্বনিম্ন।

চীন সরকার বিনিময় হার কমিয়ে রেখে রপ্তানি আয়ে লাভবান হওয়ার জন্য এই কৌশল চালিয়ে গেলেও মুদ্রাবাজারে অস্থিরতার আশঙ্কায় পুঁজিবাজারে শুরু হয় ব্যাপক দরপতন। ফলে বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টার মধ্যে সূচক সাত শতাংশ কমে গেলে সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ সার্কিট ব্রেকারের সীমায় পৌঁছে যায়; বন্ধ হয়ে যায় লেনদেন।   

এ নিয়ে চলতি সপ্তাহেই দ্বিতীয় বারের মতো সার্কিট ব্রেকারে আটকে চীনা পুঁজিবাজারের লেনদেন বন্ধ  হলো। ইউয়ানের অবমূল্যায়নের পর তাৎক্ষণিকভাবে আঞ্চলিক অন্য মুদ্রাগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অস্ট্রেলীয় ডলারের দর চোখের পলকে অর্ধেক মার্কিন সেন্ট কমে যায়।

এই পরিস্থিতিতে চীনা পণ্যের সঙ্গে পাল্লায় টিকে থাকার জন্য এশিয়ার অন্য দেশগুলোতেও মুদ্রার মান কমানোর চাপ তৈরি হয়। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের বাজারেও। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের শেয়ার বাজারেও দরপতন হয়।  

এদিকে গত দুই বছর ধরে ধুঁকতে থাকা জ্বালানি তেলের বাজার ইউয়ানের অবমূল্যায়ন আর যুক্তরাষ্ট্রের মজুতদারির কারণে বৃহস্পতিবার আরও খানিকটা পড়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম নেমে এসেছে ৩২.৪০ ডলারে, যে দাম ছিল ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে, বিশ্বমন্দার সময়।     


এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী জর্জ সরোস বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না গেলে ২০১৬ সালের বিশ্ব আট বছর আগের সেই মন্দার দিনে ফিরে যেতে পারে।  

বর্তমান বিশ্বের মোট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ১৭ শতাংশ চীনের ওপর নির্ভর করে। কোনো কারণে চীনের ভোক্তা চাহিদা কমে গেলে বিশ্ব বাজারে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে।এদিকে জ্বালানি তেল, তামাসহ বিভিন্ন খনিজের সবচেয়ে বড় ভোক্তা চীন হওয়ায় মুদ্রাবাজারে অস্থিরতার ফলে এসব পণ্যের রপ্তানিকারকরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।