logo

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ডিউটি থেকে বাদ মহিলা কনস্টেবল

খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ঠিকানায় উটকো ফোনের বিল! আর তা নিয়েই হুলস্থুল কাণ্ড! কী উদ্দেশ্য? ঘটনার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র নেই তো? উত্তর হাতড়াতে গিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কালঘাম ছুটেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্তা থেকে কর্মীদের।

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ডিউটি থেকে বাদ মহিলা কনস্টেবল

কলকাতা, ০৭ জানুয়ারি- খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ঠিকানায় উটকো ফোনের বিল! আর তা নিয়েই হুলস্থুল কাণ্ড!

কী উদ্দেশ্য? ঘটনার পিছনে কোনও ষড়যন্ত্র নেই তো? উত্তর হাতড়াতে গিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কালঘাম ছুটেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্তা থেকে কর্মীদের। শেষপর্যন্ত জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কলকাতা পুলিশের এক মহিলা কনস্টেবলের ফোনের বিল সেগুলি। পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনার জেরে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ডিউটি থেকে সরানো হয়েছে মণিকা মণ্ডল নামে ওই কনস্টেবলকে।

ঠিক কী ঘটেছিল? সূত্রের খবর, সপ্তাহখানেক আগের ঘটনা। একটি মোবাইল সংস্থার তরফে ফোন বিল দিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি ঢুকতে চান এক ব্যক্তি। তবে ঢুকতে না পারলেও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের হাতেই চারটে বিল তুলে দেন তিনি। ওই ব্যক্তির কাছ থেকে বিলগুলি দেখে নড়চড়ে বসেন পুলিশকর্মীরা। চারটে বিলেই নাম রয়েছে মণিকা মণ্ডলের। কিন্তু ঠিকানা রয়েছে ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জী স্ট্রিটের, যা কিনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির ঠিকানা। খবর যায় প্রশাসনের বড়কর্তাদের কাছে। খোঁজ শুরু হয় বিলে উল্লিখিত নামের ওই মহিলার।

অবশ্য বেশি বেগ পেতে হয়নি পুলিশকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জানা যায়, মনিকা আসলে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক মহিলা কনস্টেবল। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের নামের তালিকা থেকেই তা জানতে পারে পুলিশ। কিন্তু কী উদ্দেশ্যে তিনি নিজের বাড়ির ঠিকানা না দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ঠিকানা ব্যবহার করলেন তা জানতে মণিকাকে লর্ড সিন্হা রোডে স্পেশাল ব্রাঞ্চের দফতরে নিয়ে গিয়ে শুরু হয় দফায় দফায় জেরা। সূত্রের খবর, মণিকা জেরায় জানান, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে প্রতিদিন ডিউটি থাকায় তিনি মোবাইল সংস্থাকে ওই ঠিকানায় ফোন বিল পাঠাতে বলেছিলেন। কিন্তু পুলিশের একাংশের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার কাজে যুক্ত থাকায় তাঁর তো জানা উচিত মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি। ফোনের বিল দিতে আসার নাম করে তো কেউ অন্য কোনও ঘটনাও ঘটাতে পারে! একজন পুলিশকর্মী হিসাবে কীভাবে তিনি সে বিষয়টি ভুলে গেলেন? তবে এরপরেও জবাবে সেই একই যুক্তি দেন মণিকা।

এক পুলিশকর্তা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। কেউ কোনও অন্তর্ঘাত ঘটাতে চাইছে কি না, এক্ষেত্রে তা-ও জানা জরুরি ছিল। যদিও পুলিশের অনুসন্ধানে তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি বলেই খবর।

পুলিশ সূত্রের খবর, ২০১৩ ব্যাচের মহিলা কনস্টেবল মণিকার পোস্টিং কলকাতা পুলিশের পাবলিক রিলেশন ব্যুরোতে (পিআরবি)। সেখান থেকে বছরখানেক আগে তিনি এসবি’র (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) স্পেশাল সিকিওরিটি ইউনিটে (এসএসইউ) ডেপুটেশনে আসেন। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি-সহ অন্যান্য জায়গায় তাঁর নিরাপত্তার কাজে যুক্ত থাকতেন মণিকা। সূত্রের খবর, এই ঘটনার জেরে তাঁকে এস এস ইউ থেকে সরিয়ে পিআরবিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।