logo

মস্তিষ্কের বারোটা বাজাতে পারে মধ্যরাতের হালকা খাবার

মস্তিষ্কের বারোটা বাজাতে পারে মধ্যরাতের হালকা খাবার

গভীর রাতে যারা স্ন্যাক্সের জন্যে রান্নাঘর যান, এ অভ্যাস তাদের স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা করতে পারে। নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রেও মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে পড়ে। নতুন এক গবেষণায় এসব তথ্য জানানো হয়। মাঝে মধ্যে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসও মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ও নতুন কিছু শেখার ক্ষেত্রে সমস্যা করতে পারে। এটা মস্তিষ্কের মনোবিজ্ঞান বলে মন্তব্য করেন ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণা দলের প্রধান ডন লোহ।

এ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের মস্তিষ্কে পরীক্ষা চালান তারা। দেখা গেছে, যে সব ইঁদুরকে ঘুমানোর সময় খাওয়ানো হয় তাদের স্মৃতিশক্তিতে ভাটা পড়ে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি স্মৃতিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যায়। এর সঙ্গে একধরনের ভয় কাজ করে মনে। কারণ অনেক কিছুই শনাক্ত করতে সমস্যা হয় তাদের। স্মৃতিশক্তি এবং পরিচিত কোনো জিনিস শনাক্তকরণের কাজটি করে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস। এই অংশটি পুরনো ও নতুন স্মৃতির সমন্বয় করে।

গবেষকরা জানান, কোনো অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সংকেত পাঠায়। এই অভিজ্ঞতা যতবার আসবে তত বেশি জোরালো সংকেত পাঠাবে স্নায়ুতন্ত্র। ঘুমানোর সময় খাবার খেলে স্নায়ুতন্ত্রের এই সংকেত দুর্বল হয়ে যায়। এমনটাই দেখা গেছে ইঁদুরের দেহে।

আবার নতুন কিছু শেখা এবং দেহঘড়ির ক্রিয়ায় প্রভাববিস্তার করে কিছু জিন। এ কাজে 'সিআরইবি' নামের এক প্রোটিন কাজ করে। স্মৃতি নষ্টের সঙ্গে সিআরইবি প্রোটিনের কার্যকারিতা করে আসে। রাতে ঘুমানোর সময় ইঁদুরকে খাওয়ানো হলে তাদের মস্তিষ্কে হিপোক্যাম্পাসে সিআরইবি প্রোটিনের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়।

বিজ্ঞানীরা বলেন, এই প্রথমবারের মতো গবেষণায় দেখা গেছে, খাওয়ার সময় এদিক-ওদিক করে দেহের মলিকিউলার ঘড়িকে ঠিকঠাক করা যায়। তাই ভুল সময়ে খাওয়া হলে দেহের সার্কাডিয়ান ক্লকে ঝামেলা লেগে যায়। ইলাইফ জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি