logo

সাগরের গ্যাসের দাম আরও বাড়ছে

হাসনাইন ইমতিয়াজ


সাগরের গ্যাসের দাম আরও বাড়ছে

ঢাকা, ০৬ জানুয়ারি- বিদেশি কোম্পানির চাপের মুখে আবারও উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) ২০১২-তে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে গ্যাসের দাম (কোম্পানির অংশের গ্যাস, যা বাংলাদেশ কিনবে) আরও বাড়ানো হবে। এজন্য একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেবে পেট্রোবাংলা, যারা পিএসসি সংশোধনের আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখবে।

পিএসসি ২০১২-এর অধীনে বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রের তিন ব্লকে (ডিএস-১২, ডিএস-১৬ ও ডিএস-২১) তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে কাজ করার কথা নরওয়েভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি স্টেট অয়েলের। কিন্তু গ্যাসের দর বাড়ানোর দাবিতে এখনো চুক্তি করেনি কোম্পানিটি। এর আগেও বিদেশি কোম্পানিগুলোর দাবির মুখে পিএসসি সংশোধন করে একবার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল সরকার, তবে তা করা হয়েছিল দরপ্রক্রিয়া শুরুর আগে।

এ প্রক্রিয়াকে আত্মঘাতী উল্লেখ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ‘চাপ প্রয়োগে যদি বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় তবে দর প্রক্রিয়া অর্থহীন হয়ে যায়। দর প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর পিএসসি সংশোধন যৌক্তিক নয়। কারণ পিএসসি সংশোধনের মাধ্যমে একটি কোম্পানিতে বাড়তি সুবিধা দিলে, দেশে কার্যরত অন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোও এমন সুযোগ চাইবে। তারাও নিজ নিজ পিএসসির বাইরে অতিরিক্ত সুবিধা চাইবে।’

তবে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান ইশতিয়াক আহমদ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘স্থলভাগের গ্যাসের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সাগরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করতে হবে। এজন্য দ্রুত অনুসন্ধান কাজ শুরু করা দরকার।’

তিনি জানান, স্টেট অয়েলের সঙ্গে আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছে। সমস্যার সমাধানে একটি উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। স্টেট অয়েল একমাত্র অংশগ্রহণকারী হওয়ায় পিএসসি সংশোধনে প্রশ্ন উঠবে না বলে মনে করেন ইশতিয়াক আহমদ।

পিএসসি ২০১২-এর আওতায় ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা। একমাত্র দরদাতা হিসেবে ডিএস-১২, ডিএস-১৬ ও ডিএস-২১ এই তিন ব্লকের জন্য ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে যৌথভাবে দরপ্রস্তাব জমা দেয় কনোকোফিলিস ও স্টেট ওয়েল। এই তিন ব্লকের অনুসন্ধান কাজে কোম্পানি দুটি ৩২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয় । গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের এই প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন করে।

কিন্তু গত এপ্রিলে কনোকো বাংলাদেশ সরকারকে জানায়, তারা এ তিন ব্লকে কাজ করতে ইচ্ছুক নয়। অন্য অংশীদার স্টেট অয়েলকে ব্লক তিনটি দিতে সরকারকে অনুরোধ করে কনোকো। বিষয়টিতে সরকার রাজি হয়।

এর পর গত জুনে স্টেট অয়েল সরকারের কাছে গ্যাসের দাম বাড়ানোর আবদার করে। জ্বালানি বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে কোম্পানিটি জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিদ্যমান পিএসসির শর্তাদি মেনে মুনাফা করা সম্ভব নয়। নতুন করে গ্যাসের মূল্য সমন্বয় চায় স্টেট অয়েল। চিঠিতে ইউনিট প্রতি (এক হাজার ঘনফুট ) গ্যাসের দাম সাড়ে নয় ডলার করার দাবি করে কোম্পানিটি। সংশোধিত মডেল পিএসসি ২০১২ অনুসারে এক ইউনিট গ্যাসের দাম সাড়ে ৬ ডলার।

উল্লেখ্য, দরপ্রক্রিয়া শুরুর আগে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মতামতের ভিত্তিতে পিএসসি-২০১২ একদফা সংশোধন করা হয়। তখন প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম এক ডলার বাড়িয়ে ৫.৫ ডলার থেকে ৬.৫ ডলার করা হয়।