logo

ওবামার বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নীতি নিয়ে ট্রাম্পের খোঁচা

ওবামার বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নীতি নিয়ে ট্রাম্পের খোঁচা

ওয়াশিংটন, ০৬ জানুয়ারি- মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে আইন আরও কড়াকড়ি করার জন্য কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে তার কার্যনির্বাহী ক্ষমতা বা ‘এক্সেকিউটিভ পাওয়ার’ ব্যাবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে রিপাবলিকান দলের থেকে ইতিমধ্যে অনেক সমালোচনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন প্রত্যাশি একনম্বর আলোচিত রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই বিষয়ে ওবামাকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি।    

সোমবার ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট ওবামাকে উদ্দেশ করে বলেন, তার এই গান কন্ট্রোল আইনে কোনও কাজের কাজ তো কিছুই হবে না, বরং দরকারে আমেরিকানরাই আর আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে পারবেন না। এতে করে আমেরিকানদের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।    

সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, ‘খুব শিগগিরই আমরা আর আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে পারবো না। আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে না পারার জন্য এই আইন করা। এই আইনের ফলে সন্ত্রাসীদের হাতে ঠিকই বন্দুক থাকবে কিন্তু নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য মার্কিন জনগণের কাছে কিছুই থাকবে না। ’ 

উদাহরণ হিসেবে তিনি আগের সন্ত্রাসী হামলাগুলোর কথা তুলে ধরে বলেন, ‘যদি প্যারিসের লোকদের কাছে বন্দুক থাকতো তাহলে সেখানে ১৩৪ জন লোক মারা পড়তেন না। যদি ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষদের হাতে বন্দুক থাকতো তা হলে ১৬ জন মানুষ মারা পড়তেন না।’ 

শুধু তাই না ট্রাম্প বস্তি এলাকার (যেখানে আগ্নেয়াস্ত্র নিষিদ্ধ) কথা তুলে বলেন, ‘যখনই আমি দেখি বন্দুক মুক্ত কোনও এলাকা তখনই আমার কাছে মনে হয় কোনো খ্যাপাটে লোক হয়তো এক্ষুনি বন্দুক নিয়ে বেরিয়ে আসবে এবং গুলি করতে শুরু করবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আইনে আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে অনেক ঢিলেঢালা ভাব রয়েছে। মানুষ খুব সহজেই সেখানে টাকার বিনিময়ে কিনতে পারেন যে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র। এতে করে বন্দুক যুদ্ধের মত ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে প্রচুর। প্রেসিডেন্ট ওবামা অনেক আগে থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র কেনার উপরে আরও কড়াকড়ি আইন করার পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু কিছুদিন আগে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তিনি জোরেশোরে লেগেছেন এই নীতিমালা প্রণয়নে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হলেও আইন প্রণয়নে তার ক্ষমতা বাধা রয়েছে কংগ্রেসের হাতে। স্বাভাবিকভাবে তিনি চাইলেও কংগ্রেসের সমর্থন ছাড়া এটা বাস্তবায়িত করতে পারবেন না। কিন্তু বিশেষ কার্যনির্বাহী ক্ষমতা বলে সেটা করতে পারবেন এবং তিনি সেই ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।