logo

ক্যানসারের রোগিণীকে মেয়াদ-উত্তীর্ণ ওষুধ। হাতেনাতে ধরলেন পরিজনেরা

ক্যানসারের রোগিণীকে মেয়াদ-উত্তীর্ণ ওষুধ। হাতেনাতে ধরলেন পরিজনেরা

কলকাতা, ০৬ জানুয়ারি- মেয়াদ পেরনো ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছিল ক্যানসারে আক্রান্ত এক রোগিণীর শরীরে। হাতেনাতে ধরে ফেলেন রোগীর পরিজনেরা। এরপর টাকার প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি ‘মিটমাট’ করে নিতে বলেন কর্তব্যরত নার্সেরা। রোগিণীর পরিজনেরা পুরো বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। অভিযোগ পেয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা চারজন নার্সকে ছুটিতে পাঠিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ঘটনা। হিঙ্গলগঞ্জের বাসিন্দা ৪২ বছরের শোভারানি মণ্ডল যকৃতের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ওই হাসপাতালে ভর্তি। হাসপাতালের তিনতলায় ২০২ নম্বর বেডে তাঁর কেমোথেরাপি চলছে। হাসপাতাল সূত্রের খবর, সোমবার দুপুরে রোগিণীর কেমো শুরু হওয়ার সময় তাঁর ছেলে রাকেশ সংশ্লিষ্ট দুই নার্সকে ওষুধের মেয়াদের তারিখ দেখে নিতে অনুরোধ করেন। ওষুধ ঠিকই আছে বলে নার্সেরা রাকেশকে জানান। কিন্তু রাকেশ সেগুলি হাতে নিয়ে দেখেন, চারটির মধ্যে তিনটি কেমোরই মেয়াদ পেরিয়ে গিয়েছে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে। এরপরই রাকেশ চিৎকার শুরু করেন। রোগিণীর দায়িত্বে থাকা চিকিত্সক কল্যাণ মুখোপাধ্যায়কে তিনি সেগুলি দেখান। মঙ্গলবার রাকেশ বলেন, ‘‘আমি না দেখলে মা’কে ওই মেয়াদ-উত্তীর্ণ ওষুধই দেওয়া হতো। প্রতিবাদ করতেই আমাকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি চেপে যেতে বলেন নার্সেরা।’’ এদিনই তিনি লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। চিকিত্সক কল্যাণ বলেন, ‘‘ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ওই ওষুধ শরীরে ঢুকলে বিপদ হতো।’’

হাসপাতালের অধিকর্তা জয়দীপ বিশ্বাস এদিন রাতে বলেন, ‘‘চারজন নার্সকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।’’ তবে মেয়াদ-উত্তীর্ণ ওষুধ কীভাবে ওয়ার্ডে এল, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি জয়দীপ।