logo

অজানা মীরের খোঁজ দেবে এবারের বইমেলা

অজানা মীরের খোঁজ দেবে এবারের বইমেলা

কলকাতা, ০৬ জানুয়ারি- তাঁর ‘হাই কোলকাতা’য় আড়মোড়া ভাঙে শহর৷ তাঁর ‘মীরাক্কেল’-এর হাসির খোরাক নিয়েই ডিনার সেরে খুশি মনে ঘুমোতে যায় কলকাতা৷ কিন্তু তাঁর গোটা দিনটা কেমন কাটে? সারাক্ষণ সকলের মুখে হাসি ফোটাতে তাঁকে কতখানি প্রস্তুতি নিতে হয়? সকালের স্টুডিও থেকে রাত গড়িয়ে শুটিং-এর মধ্যে বাড়িকতেই বা কতটা সময় দিতে পারেন? জনপ্রিয় আরজে, অ্যাঙ্কর, অভিনেতা মীরের এখনও অবধি জীবনের এরকমই হাজারো কথা এবার দু’মলাটের মোড়কে৷ এই বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর জীবনের খুঁটিনাটি নিয়ে বই- ‘মীর এই পর্যন্ত’৷

তাঁর নিয়মিত শ্রোতা বা দর্শকরা অনেকেই জানেন তাঁর সম্বন্ধে৷ শহরের অদ্বিতীয় পরিচিত মানুষটি হয়ে ওঠার পিছনে তাঁর সংগ্রামের দিনগুলিকে তিনি কখনওই লুকিয়ে রাখেননি৷ 

কথাপ্রসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় জানিয়েছেন, কেমন করে এক ইস্ত্রিওয়ালার কাছে বিজ্ঞাপন দেখে তিনি আরজে হওয়ার অডিশন দিতে গিয়েছিলেন৷ প্রসাদ স্টুডিওর ভয়েস ওভার দেওয়ার দিনগুলো তিনি ভুলে যাননি৷ আর তাই আজও সাফল্যের ঝলমলে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি জানান সে কথা৷ শুধু হাসির টুকরো তুলে ধরা নয়, নিজের জীবনকেও তিনি ওই হাসির আড়ালেই তুলে ধরেন৷ কে না জানে, সলতে না পুড়লে আলো মেলে না৷ তেমনই প্রতিদিনের পরিশ্রম আর নিষ্ঠায় নিজেকে প্রস্তুতির আগুনে না পোড়ালে তার পারফরমেন্স এমন সোনা হয়ে ফলত না শহরের মঞ্চে মঞ্চে৷ শহর প্রকাশ্যে যে মানুষটাকে দেখে, তার আড়ালেও একজন মানুষ আছেন৷  যে মানুষটা এমন তুমুল ব্যস্ততার মধ্যেও মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতে ভোলেন না৷ সেই প্রায় অচেনা মানুষটির ছবিই অক্ষরে আঁকবে এ বই৷ তুলে আনবে তাঁর জীবনের অজানা পর্বটিকে৷ শহরের চেনা ‘মীর’ হয়ে ওঠার আগে থেকেই মীর কেমন ছিলেন, কেমন ছিল তাঁর প্রথম জীবন, আর এখন মীরের জীবন কেমন, সেবই এ বইয়ে মীরের ফ্যানদের জন্য তুলে দিয়েছেন লেখিকা শতরূপা বোস রায়৷

বইটির প্রকাশনা সংস্থা সৃষ্টিসুখ৷ কেন মীর-কে বিষয় করে একটি বই প্রকাশের ভাবলেন তাঁরা৷ প্রকাশক রোহণ কুদ্দুস জানালেন, ‘‘ পান্ডুলিপি পাঠিয়েছিলেন লেখিকাই৷ টিভির পরদায় মীরের কমেডি নিয়ে মাঝেমধ্যে বিতর্ক হয়৷ এটুকুই জানি৷ তাঁর বাইরে ওকে আমি সেভাবে চিনি না৷ কিন্তু শাহরুখের ছবি না দেখলেও যেমন তাঁর প্রতিটি ইন্টারভিউ পড়ি, সেভাবেই পড়েছিলাম এই পান্ডুলিপি৷ এবং যা পেয়েছি তা আমার প্রত্যাশার বাইরে৷ এখানে যাঁর কথা লেখা তিনি সেলিব্রিটি মীর হয়ে ওঠার আগের মীর৷মীরাক্কেল ভালো লাগবে কিনা, সেটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার।কিন্তু মীর যে পরিমাণ ঘাম ঝরান, তার অর্ধেক কমিটমেন্টও যদি আমরা নিজের কাজে দেখাই, তাহলে আমাদের পিছু ফিরে দেখতে হবে না।’’ আর সেটাই এ বই থেকে প্রাপ্কি হতে চলেছে৷

মীরের ফ্যানরা এ বই পেয়ে খুশি তো হবেনই৷ তবে প্রকাশকের কথার সূত্র ধরেই বলতে হয়, মীরের কমিটমেন্টের ছিটেফোঁটাও যাঁরা আয়ত্ত করতে চান, তাঁরাও নিশ্চয়ই এ বইয়ের পাতা উলটে দেখবেন৷ এবারের বইমেলা তাই হয়তো অজানা মীরের খোঁজে অনেকেরই ঠিকানা হবে ৪৯৩ নং স্টল৷