logo

বাজারে আসছে চালকহীন ট্যাক্সি 'স্নুবের'

বাজারে আসছে চালকহীন ট্যাক্সি 'স্নুবের'

পিয়ংইয়ং, ০৬ জানুয়ারি- বিশ্বের প্রথম চালকহীন ট্যাক্সি চালিয়ে চমক দিল দক্ষিণ কোরিয়া। গত ৬ মাসে কোনও দুর্ঘটনা ছাড়াই যাত্রী ও মালপত্র বহন করছে স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি 'স্নুবের'। গত ৬ মাস ধরে সিওল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যাত্রী ও মাল পরিবহণে সুনাম অর্জন করেছে স্নুবের। মোট ৪১০৯ বর্গ মিটার এলাকায় চালকহীন এই ট্যাক্সি মসৃণ ভাবে কাজ করছে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেহিকল আইটি রিসার্চ সেন্টার-এর আধিকারিক সিও সিয়াং-উ্যু জানিয়েছেন, এক বিশেষ অ্যাপের সাহায্যে এই যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পরীক্ষামূলক সফর সফল হওয়ার পর এবার বাণিজ্যিক ভাবে এই ট্যাক্সি কাজে লাগানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্নুবের-এর সাফল্যে বিশ্বজুড়ে যাত্রী পরিবহণ ব্যবস্থায় নয়া দিশা দেখা দেবে বলে আন্তর্জাতিক পরিবহণ সংস্থাগুলির তরফে আশা পোষণ করা হয়েছে। আগামী ২০২০সালের মধ্যে চালকহীন ট্যাক্সি পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে জাপানি সংস্থা রোবট ট্যাক্সি ইনকর্পোরেটিভ। গ্রিসে শহরের ভিড়ে ঠাসা ট্র্যাফিকেও পরীক্ষামূলক চালানো হয়েছে চালকহীন বাস 'সিটি মোবাইল ২'। গত সোমবার জেনারেল মোটর্স কোম্পানি-র তরফে ঘোষণা করা হয়েছে, লিফ্ট ইনকর্পোরেটিভ সংস্থার সঙ্গে অংশীদারির ব্যবসায় ৫০০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে চালকহীন গাড়ি তৈরির উদ্যোগ শুরু হতে চলেছে। তবে বাকিদের থেকে কিছুটা ধীরে চলো নীতি নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশের অগ্রণী গাড়ি নির্মাণ সংস্থা হুনডাই-এর তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২০৩০ সালে বাজারে চালকহীন গাড়ি আনা হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি জানুয়ারি মাসেই চালকহীন গাড়ি তৈরির উদ্দেশে বিশেষ প্রতিনিধি দল গড়েছে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স গোষ্ঠী। সিওল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের তৈরি চালকহীন গাড়ি অনেকের নজর কেড়েছে। এই গাড়ির মাথায় বসানো স্ক্যানার প্রতি মুহূর্তে রাস্তার পরিস্থিতি জরিপ করে। এছাড়া রয়েছে ক্যামেরা, বিভিন্ন স্ক্যানার ও অন্যান্য সেন্সর। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে চত্বরের ভিতরে গাড়ির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩০ কিমি রাখা হয়েছে।

দেশের ট্র্যাফিক আইন অনুযায়ী, সম্পূর্ণ চালকহীন গাড়ি রাস্তায় নামানো নিষেধ। সেই কারণে আপাতত স্টিয়ারিংয়ের পিছনে একজন চালককে বসতে হচ্ছে। প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয় গাড়িটি তিনিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন বলে জানিয়েছে নির্মাতা সংস্থা।