logo

সমাবেশের শর্ত কাগজেই থাকল

কাজী মোবারক হোসেন


সমাবেশের শর্ত কাগজেই থাকল

নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের কাছে পুলিশ ছিল বিপুল সংখ্যক, কিন্তু শর্ত অমান্য ঠেকাতে তাদের তৎপরতা দেখা যায়নি

ঢাকা, ০৫ জানুয়ারী- রাজধানীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে জনসভা করতে কয়েকটি শর্ত পুলিশ বেঁধে দিলেও তার অধিকাংশের কার্যকারিতা দেখা যায়নি।

সড়ক বন্ধ না করতে ডিএমপি রাজনৈতিক দল দুটিকে শর্ত দিলেও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে আওয়ামী লীগের জনসভার সময় পুলিশকেই গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে দেখা গেছে।

মঙ্গলবার বিকালে নয়া পল্টনে বিএনপি এবং বায়তুল মোকাররমে আওয়ামী লীগের সমাবেশের সময় কোনো সহিংসতা না ঘটলেও দুটি এলাকায় যানজটের ধকল পোহাতে হয়েছে নগরবাসীকে।

আর তাতে আটকে থাকা আজমেরি পরিবহনের এক যাত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করেন। কিন্তু এভাবে রাস্তার ওপর সমাবেশ করায় যে জনগণের ভোগান্তি বাড়ে, তা নেতাদের বোঝা উচিত।”

দশম সংসদ নির্বাচনের দুই বছর পূর্তিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবসের’ সমাবেশ বায়তুল মোকাররমের পাশাপাশি ধানমণ্ডিতেও করে।

অন্যদিকে বিএনপির ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসের’ সমাবেশ ছিল শুধু নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে, যাতে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন।

দুই দলই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সমাবে করতে চাওয়ায় গত বছরের মতো উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। পরে পুলিশ দুই দলকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভার অনুমতি দেয়, তাতে কয়েকটি শর্তও জুড়ে দেয়।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে, কিন্তু তারা সমাবেশ করেছে কয়েকশ’ গজ উত্তরে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ বলেন, “বায়তুল মোকাররম মসজিদ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর মধ্যেই পড়েছে।”


কার্যালয়ের সামনে অনুমতি পেলেও আওয়ামী লীগের সমাবেশ হয় বায়তুল মোকাররমের সামনে

এই সমাবেশ শুরুর আড়াই ঘণ্টা আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় জিপিও মোড় থেকে স্টেডিয়ামের দিকে সড়কে বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ।

এজন্য বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকায় যানজট লেগে ছিল প্রায় চার ঘণ্টাজুড়ে।  

কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের মঞ্চ নির্মাণের শর্ত থাকলেও আওয়ামী লীগের মঞ্চ ছিল তা থেকে বেশ খানিকটা দূরে এবং সড়কের উপরই।

জনদুর্ভোগ সৃষ্টি যাতে না হয়, এমন শর্তও ছিল পুলিশের। তবে আওয়ামী প্রচার লীগের ট্রাক মিছিল এই শর্তও ভেঙেছে।

সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে অন্তত ২০টি ট্রাক নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে ৩টার দিকে সমাবেশে এসে যোগ দেয় প্রচার লীগের এই ট্রাক মহড়া।

সকাল থেকে সমাবেশস্থল ও আশপাশের সব রাস্তার মোড়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশের অবস্থান দেখা গেলেও শর্ত অমান্যের ঠেকাতে তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

শর্ত অমান্যের বিষয়ে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের  উপকমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, “পার্টি অফিসের সামনে কয়েক হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছে। সুতরাং এত মানুষকে তো আর শুধু পার্টি অফিসের সামনে জায়গা দেওয়া যায় না।”


বিএনপির সমাবেশের সময় নয়া পল্টন দিয়ে চলাচলের কোনো উপায় ছিল না

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের মতোই সড়কের  উপরে। সড়কের দুই লেইনে নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেওয়ায় গাড়ি চলাচল তো বন্ধ ছিলই, পথচারীদের চলাচলও ছিল দুস্কর।   

স্বল্প সংখ্যক মাইক ব্যবহারের কথা থাকলেও মাইকের সংখ্যা ছিল অনেক। সমাবেশমুখী মিছিলও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। সমাবেশে খালেদা জিয়া ৫টার পরও ১৫ মিনিট কথা বলেন।

রাজধানীতে আগে সড়কজুড়ে জনসভা হলেও পরে পল্টন এবং মুক্তাঙ্গন জনসভার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। পল্টন ময়দান এখন আর নেই, মুক্তাঙ্গন এখন হয়ে পড়েছে গাড়ি রাখার স্থান।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই এখন বড় জনসভাগুলো হয়ে থাকে। কিন্তু ওই স্থানটি দুই পক্ষ চাওয়ার পর সংঘাতের ঝুঁকি এড়াতে দলীয় কার্যালয়ের সামনের সামনে জনসভার অনুমতি দল দুটিতে দিয়েছিল পুলিশ।

মঙ্গলবারের সমাবেশ চলার সময় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হিমশিম খাওয়া এক এসআই বলেন, “পার্টি অফিসের সামনে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া ঠিক না। এতে জনগণের ভোগান্তি বাড়ে।