logo

ফুটবলার বাবার স্বপ্ন পূরণ ক্রিকেটার নুরুলের

আরিফুল ইসলাম রনি


ফুটবলার বাবার স্বপ্ন পূরণ ক্রিকেটার নুরুলের

কাজী নুরুল হাসানের বাবা ছিলেন ফুটবলার। তবে স্বপ্ন দেখতেন, ছেলে খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে উচ্ছ্বসিত এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচের বাংলাদেশ দলে সুযোগ পেয়েছেন নুরুল হাসান। ২০১০ ও ২০১২ সালে খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও পরিচিত মুখ। জাতীয় দলে সুযোগ পেলেন প্রথমবার।

যে কোনো ক্রিকেটারের স্বপ্নের প্রথম ধাপ জাতীয় দল। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত নুরুল। তবে তার উচ্ছ্বাস পাখা মেলছে বাবার স্বপ্ন পূরণ করার আনন্দে।তিনি জানালেন সেই তৃপ্তির কথা।

“খুব ভালো লাগছে। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে। বাবা ফুটবল খেলতেন, কিন্তু সবসময়ই চেয়েছেন ক্রিকেটে আমি যেন জাতীয় দলে খেলি। শুরুতে সবাই যখন ক্রিকেট খেলতে মানা করত, বাবা সব সময় উৎসাহ দিয়ে গেছেন। বাবা আজ দারুণ খুশি, এজন্যই আমি সবচেয়ে বেশি খুশি।”

বাবা ফুটবলার ছিলেন, নুরুলের এই কথা আসলে তার বাবাকে তুলে ধরছে সামান্যই। কাজী নাসিমুল হাসান (শানু) খেলেছেন দেশের ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে!
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন আরামবাগ, মুক্তিযোদ্ধার মত ক্লাবে। তবে কখনও জাতীয় দলে খেলা হয়নি। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে না পারার নিজের সেই আক্ষেপ থেকেই বুনেছিলেন নতুন স্বপ্নের বীজ। জাতীয় দলে খেলতে হবে, এই স্বপ্ন গেঁথে দিয়েছিলেন ক্রিকেটার ছেলের মনে। বাবার হাসিমুখটা মনে করেই তাই ভালো লাগায় ভেসে যাচ্ছেন নুরুল, “ফোনে কথা হয়েছে বাবার সঙ্গে, দারুণ খুশি তিনি।”

জিম্বাবুয়ে সিরিজের দলে থাকতে পারেন, নুরুলের মনের কোণে এই আশা বাসা বেঁধেছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকার পরই। অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাও ইঙ্গিতটা দিয়ে রেখেছিলেন তাকে। দলে ডাক পাওয়াটা তাই খুব বড় বিস্ময় হয়ে আসেনি তার কাছে।

তবে সত্যি বলতে, জাতীয় দলের আশেপাশে থাকার মত খুব জোড়ালো পারফরম্যান্স তার ছিল না। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করেছেন বরাবরই, তবে জাতীয় দলে ঢোকার দাবি জানানোর মত ধারাবাহিক চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স ছিল না কখনোই। যদিও প্রতিভা আর সামর্থ্যের জানানটা দিয়ে রেখেছেন মাঝেমধ্যেই।

টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেলেন মূলত এই সংস্করণটির চাহিদার কারণেই। ৬-৭-৮ নম্বরে বা ইনিংসের শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার একজন ব্যাটসম্যান বেশ কিছুদিন ধরেই খুঁজছে বাংলাদেশ। নুরুল বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান না হলেও হাতে আছে অনেক শট। ক্রিকেট শটের বাইরেও খেলতে পারেন উদ্ভাবনী সব শট। রানের চাকা সচল রাখতেও জুড়ি নেই তার। সব মিলিয়ে নুরুলকেই আপাতত ওই জায়গাটার সমাধান ভাবছে নির্বাচক কমিটি ও টিম ম্যানেজমেন্ট। নুরুল নিজেও সেটা জানেন। দলের চাওয়া পূরণেও তিনি আত্মবিশ্বাসী।

“টি-টোয়েন্টি খেলাটাই আসলে চ্যালেঞ্জ। আর আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। শুধু শেষের দিকে কেন, যখন-যেখানে ব্যাট করানো হবে, দল যা চাইবে, আমি সেটাই করতে চাই।” ব্যাটিং সামর্থ্যের সঙ্গে কিপিংটা তার বড় শক্তি। বেশ কিছুদিন ধরেই নুরুলকে মনে করা হচ্ছে দেশের সেরা উইকেটকিপার। টেকনিক দারুণ, রিফ্লেক্স ও অনুমানশক্তি দুর্দান্ত।

খুব ভালো ‘টিমম্যান’ হিসেবেও পরিচিতি আছে নুরুলের, এখনকার বাংলাদেশ দলে জায়গা পাওয়ায় যেটিকে মনে করা হয় বড় যোগ্যতা। সব মিলিয়েই সুযোগটা পেয়েছেন নুরুল। এবার দায়িত্বটা তার, সুযোগ কাজে লাগানোর!