logo

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রপ্তানি আয়

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রপ্তানি আয়

ঢাকা, ০৫ জানুয়ারি- হিয়ামিত খাদ্য ও কৃষি পণ্যসহ বেশ কয়টি পণ্যের রপ্তানি কমলেও উভেন ও নিট পোশাক এবং ওষুদের উপর ভর করে বাংলাদেশে অব্যাহত রয়েছে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ধারা। সদ্য শেষ হওয়া ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৩২০ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করেছে। এই অংক চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

২০১৫ সালের শেষ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। আগের বছরের ডিসেম্বরের চেয়ে বেড়েছে ১২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ মোট এক হাজার ৬০৮ কোটি ৪০ লাখ (১৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বরের চেয়ে প্রায় ৮ শতাংশ বেশি।

অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান শুভাশিষ বসু। ইপিবি মঙ্গলবার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে এক হাজার ৫৮৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বাংলাদেশ এক হাজার ৬০৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে।

গত অর্থবছরের এই ছয় মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল এক হাজার ৪৯১ কোটি ৪২ ডলার। এই হিসেবে ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি আয় দেশে এসেছে। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে উভেন পোশাক রপ্তানি থেকে; ৬৭০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। নিট পোশাক থেকে এসেছে ৬৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলার।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ে নিট পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ। উভেনে প্রবৃদ্ধি আরও বেশি, ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ। নিট পোশাক রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। উভেনের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দশমিক ৩৫ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি আয় গত বছরের প্রায় সমান ছিল। কিন্তু অক্টোবর মাস থেকে রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। “আর এ কারণেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে রপ্তানি আয়,” বলেন ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান। নভেম্বর মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ; অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি ছিল  ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ।

গত বছরের শুরুতে বিএনপি-জামায়াতের তিন মাসের হরতাল-অবরোধের মধ্যে ব্যাপক সহিংসতায় দেশের অর্থনীতি ও ভাবমূর্তির ক্ষতির বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে শুভাশিষ বসু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এক সময় যেসব ক্রেতা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন বলে চিন্তা করছিলেন, তারা সবাই এখন আমাদের এখান থেকে পণ্য কিনছেন।” রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রভাব রপ্তানি আয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি কমেছে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। কৃষি পণ্য কমেছে ১৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ০৫ শতাংশ। তবে ওষুধ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ২২ শতাংশ। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ১২০ কোটি ডলার। এবার তা ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার।