logo

মুসা বিন শমসেরকে দুদকে ফের তলব

মুসা বিন শমসেরকে দুদকে ফের তলব

ঢাকা, ০৪ জানুয়ারি- দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য স্বঘোষিত ধনকুবের ও রহস্যময় ব্যক্তিত্ব প্রিন্স মুসা খ্যাত মুসা বিন শমসেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)।  তাকে আগামী ১৩ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। 

সোমবার রাজধানীর সেগুণবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তার অবৈধ সম্পদ অর্জন অভিযোগের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী দুটি চিঠি পাঠান। একটি চিঠিটি তার ঢাকা বানানীতে (ব্লক নং-১, রোড নং-১ বাসা নং- ৫৭) অবস্থিত ডেটকো অফিসে পাঠানো হয়েছে। অপরটি তার গুলশান-২ এ অবস্থিত (রোড নং-৮৪, বাড়ি নং-১৫) ‘দি প্যালেস ঢাকা’-তে পাঠানো হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, গত ৭ জুন ২০১৫ তারিখে ডেটকো গ্রুপের মালিক ও আলোচিত ব্যবসায়ী  মুসা বিন শমসেরের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাই-বাছাই ও অনুসন্ধানের জন্য আবার মূলত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে।  একই সঙ্গে তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর সম্পদের উৎস সমর্থনে রেকর্ডপত্র সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। কমিশনের আইনের ১৯ ও ২০ ধারায় ও কমিশন বিধিমালার ২০ বিধির ফৌজদারী বিধির ১৬০ ধারা মোতাবেক এ নোটিশ প্রেরণ করা হয়েছে। 

দুদক সূত্র আরো জানায়, এর আগে মূসা বিন শমসেরের সম্পদ বিবরণী চেয়ে গত ১৯ মে নোটিশ পাঠিয়েছিলেন দুদক। নোটিশে তার ও তার ওপর নির্ভরশীলদের স্থাবর-অস্থাবরসহ যাবতীয় সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে সম্পদ বিবরণী আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুদক সচিব বরাবর পাঠাতে বলা হয়েছিল।  কিন্তু তিনি সম্পদরে হিসাব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠাতে পারবেন না বলে দুদকের কাছে দিত্বীয় দফায় আরও সাত কার্যদিবসের সময়ের আবেদন করেন। পরে গত ৭ জুন মুসা বিন শমসের তার আইনজীবীর মাধ্যমে দুদক সচিব বরাবর এ সম্পদের হিসাব জমা দেন।

জমাকৃত ওই সম্পদ বিবরণীতে সুইস ব্যাংকে ১২শ কোটি ডলারের কথা উল্লেখ করেন। যার মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসাবে)। যৌথ অ্যাকাউন্টধারীদের মাঝে তারই নিজস্ব অ্যাকাউন্টে এই টাকা আছে বলে উল্লেখ আছে। তবে যৌথ অ্যাকাউন্টধারীদের সঙ্গে ‘ডিড অব অ্যাগ্রিমেন্ট’ থাকার কারণে ওই অ্যাকাউন্টে অন্যদের কী পরিমাণ অর্থ রয়েছে এবং ওই অ্যাকাউন্টের অংশীদার কতোজন সে বিষয়ে উল্লেখ করে নাই।

এছাড়াও সম্পদ বিবরণীতে বলা আছে, সুইস ব্যাংকের আরেক একাউন্টে জমা রাখা আছে ৯০ মিলিয়ন ডলারের (৭১১ কোটি টাকা) সমপরিমান প্লাটিনাম, হীরা ও স্বর্ণালঙ্কার। এছাড়া উল্লেখ কার আছে, রাজধানীর গুলশানের ৮৪ নম্বর রোডে 'দি প্যালেস' নামের ১৫ নম্বর বাড়িটি বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে ২০ কোটি টাকা নিয়েছেন। ওই বাড়িটি মূসার নামে ছিল। পরে তিনি তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা চৌধুরীকে বাড়িটি দান করেছেন। এ ছাড়া গাজীপুর ও সাভারে তার নামে ১ হাজার ২০০ বিঘা জমি রয়েছে। তার কাছে ওইসব জমির দলিল থাকলেও জমিগুলো দখলে নেই। জমিগুলোর দখল ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

তবে মুসা বিন শমসের এই সম্পদ বিবরণী বিষয়ে ‘মুসা যত গর্জে, তত না’ মন্তব্য করেছিলেন দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান। তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘দুদকের কাছে তিনি বিশাল জমি-জমার হিসাব দিয়েছেন। তবে কোনো জায়গাই তার দখলে নেই। আবার বিদেশে আটক ১২ বিলিয়ন ডলারের যে তথ্য দিয়েছেন, সেখান থেকে সে তথ্যও পাচ্ছি না। আবার সেও কিছু দিতে পারছেন না। আমরা খোঁজ-খবর নিয়ে দেখেছি, তেমন কিছু নেই। যতটা না করেছেন, তার চেয়ে বেশি বলেছেন তিনি।’

উল্লেখ্য, মুসা বিন শসমেরের সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছেন দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদিন শিবলী। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় প্রথমে তাকে ২০১৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।