logo

যুক্তরাষ্ট্রে বন্যপ্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র বিক্ষোভকারীদের দখলে

যুক্তরাষ্ট্রে বন্যপ্রাণী আশ্রয়কেন্দ্র বিক্ষোভকারীদের দখলে

ওয়াশিংটন, ০৪ জানুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যে একদল সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের একটি ভবন জোর করে দখল করে নিয়েছেন। একইসাথে তারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন- সেখানকার খামার মালিকরা কর্তৃপক্ষের কাছে জমি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে কর্তৃপক্ষ নাকি তাদেরকে অন্যায়ভাবে শাস্তি দিয়েছেন।       

বিক্ষোভকারীদের নেতা আমন বানডিও এরকম একজন খামার মালিক বা র‍্যাঞ্চার। তিনি নেভাডা অঙ্গরাজ্যের আরেক নামকরা খামার মালিক ক্লিভেন বানডির ছেলে। ক্লিভেন আগের থেকেই তার সরকার বিরোধী কার্যক্রমের জন্য পরিচিত।      

তিনি সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের সাথে রবিবার সকালে ফোনালাপ করেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, বিক্ষোভকারীরা আসলে কি চান। জবাবে তিনি বলেন, তারা চান সরকার যেন মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়। তারা খামার মালিক। কাজেই তাদের জায়গায় অন্য কেউ অর্থাৎ বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ তাদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করবে সেটা তারা মানতে রাজি নন।    

তিনি বলেন, ‘বন্য প্রাণীদের এই আশ্রয়কেন্দ্র এলাকার জন্য এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকারক। মানুষের জানা দরকার যে, সরকার মানুষের অধিকারকে ব্যবহার করছে তাদের বিরুদ্ধে।’

অরেগন অঙ্গরাজ্যের বার্ন শহরের ৩০ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত ম্যালহুর ওয়াইল্ড লাইফ রিফিউজি কেন্দ্র। বিক্ষোভকারীরা এই মুহূর্তে কেন্দ্রের ভিতরে অবস্থান করছেন। সেখানকার আরেক খামার মালিক পিতাপুত্র ডুইট এবং স্টিভেন হ্যামন্ড অগ্নিসংযোগের জন্য আদালতে অপরাধী প্রমাণিত হলে তাদের সমর্থনে বিক্ষোভে নামেন আমন বানডি এবং অন্যান্যরা।          

প্রসেকিউটরা বলেছেন, পিতাপুত্র ডুইট এবং স্টিভেন হ্যামন্ড অন্যায়ভাবে বন্য প্রাণী শিকার করে সেটাকে ধামা চাপা দিতে ২০০১ সালে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুণ ধরিয়ে ১৩০ একর জায়গা পুড়িয়ে ফেলেন। এর বিচারে আদলতে তাদের ৫ বছরের কারাদণ্ড হয়। কিন্তু হ্যামন্ডরা বলছেন, তারা আগুণ ধরিয়েছিলেন আগাছা এবং ক্ষতিকর গাছপালা নিয়ন্ত্রণের জন্য।    

বিক্ষোভকারীদের নেতা আমন বলেছেন, ‘আমরা সন্ত্রাসী নই, বরং দায়িত্বশীল নাগরিক। যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের দাবি আদায় হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এখানে থাকবো। কেউ বাধা দিতে আসলে কিভাবে নিজেদের রক্ষা করতে হয় তা আমরা জানি।’