logo

বাংলাদেশী ব্লগার হত্যার খবর নিয়ে পাকিস্তানের এ কী কাণ্ড!

সাবিত খান


বাংলাদেশী ব্লগার হত্যার খবর নিয়ে পাকিস্তানের এ কী কাণ্ড!

ঢাকা, ৩ জানুয়ারী- বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তানের বিদ্বেষমূলক বৈরি আচরণের উদাহরণ কম নয়। জঙ্গি, সামরিক শাসনে বিপর্যস্ত প্রায় ব্যর্থ রাষ্ট্রটি এদেশের প্রতি তাদের পূর্বেকার ঔপনেবিশক আচরণের অহমিকা যেনো এখনও ত্যাগ করতে পারেনি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে কেন্দ্র করে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের পর যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইনডেপেন্ডেন্ট-এ প্রকাশিত নতুন এক খবর যে কারও জন্যই হতবুদ্ধিকর।

প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’এর পাকিস্তানে প্রচারিত আন্তর্জাতিক সংস্করণে বাংলাদেশের মুক্তমণা ব্লগারদের অসহায় অবস্থা নিয়ে করা এক রিপোর্ট সম্পূর্ণ উধাও করে দেয়া হয়েছে। প্রথম পেজেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টটি মুছতে গিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় পেজের অংশটুকু সাদা রাখা হয়েছে।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের পাকিস্তানি প্রতিনিধি সালমান মাসুদ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম টুইটারে আর্টিকেলটি সহ পত্রিকাটির একটি অনলাইন সংস্করণ এবং আর্টিকেলটি উঠিয়ে দেয়া পত্রিকাটির একটি হার্ড কপির ছবি টুইট করেছেন। আর এতেই প্রকট হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের গোপনীয়তার প্রবল প্রকাশ্য প্রয়াস। তবে বাংলাদেশের মুক্তচিন্তার ব্লগারদের বিপন্ন অবস্থার বিবরণে পাকিস্তানের কী সমস্যা থাকতে পারে?, তাই এখন বড় প্রশ্ন।


পাকিস্তানের প্রকাশকরা আর্টিকেলটি সরিয়ে দিলে নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকাটির আন্তর্জাতিক সংস্করণে দুটি পেজে ফাঁকা অংশ সৃষ্টি হয়। পত্রিকাটির ফ্রিল্যান্স প্রতিনিধি জশুয়া হ্যামারের লেখা প্রথম পেজে প্রকাশিত এবং ২য় পৃষ্ঠায় কিয়দংশে থাকা প্রতিবেদনটি ‘দ্য ইমপেরিল্ড ব্লগারস অব বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশের বিপন্ন ব্লগাররা) সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আর এজন্য পৃষ্ঠাগুলোর সেই অংশটুকু সাদা রাখা হয়েছে।


লিঙ্গ সমতা, মানবাধিকার, চিন্তার স্বাধীনতার প্রচারকারী এবং অনলাইনে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা বাংলাদেশী কয়েকজন ব্লগারদের উপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে আর্টিকেলটিতে। মুক্ত চিন্তা, ‘নাস্তিক’ মনোভাব, ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগিংএর কারণে হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও প্রাণে বেঁচে যাওয়া অনলাইন কর্মী আসিফ মহিউদ্দিনের কথা উঠে এসেছে। প্রাণনাশের হুমকির মুখে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।


নিজের কর্মস্থল আইটি কোম্পানি ভবনের বাইরেই ধারালো অস্ত্রের নির্মম হামলার শিকার হন আসিফ। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলাকারীর সাথে দেখা করতে গিয়েও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাই হয় আসিফের। হামলাকারী আসিফকে জানায়, সে জিহাদের জন্য কিছু করতে চেয়েছিলো। কারাগার থেকে মুক্তি পেলে সে কি করবে এমন প্রশ্নের জবাবে হামলাকারীর শীতল জবাব, “আমি আবারও চেষ্টা করবো।”

এছাড়াও প্রতিবেদনটিতে আসিফসহ কয়েকজন ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদের উপর হামলা করা বেশ কয়েকজন মাদ্রাসা ছাত্রের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে হামলাকারীরা তাদের অপরাধের কথা নির্দ্বিধায় স্বীকার  করে এবং ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদের হত্যার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য চালিত একটি উগ্রবাদী গ্রুপের তথ্য প্রকাশ করে।

রাজধানীতে নিজ বাসায় চাপাতিসহ একদল যুবকের হামলায় আগস্টে নিহত হন আরেক মুক্তচিন্তার ব্লগার  নিলয় নিল। অক্টোবরে ব্লগার অভিজিত রায়ের বইয়ের প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপনকে হত্যা করা হয়।

স্থানীয় জঙ্গিদেরই এরজন্য দায়ী করা হয়। সেদিনের অপর একটি হামলায় আরও তিনজন ব্লগার আহত হন। এছাড়াও ইসলামি জঙ্গিবাদ নিয়ে সমালোচনামুলক লেখার জন্য গত বছর কমপক্ষে আরও চারজন ‘নাস্তিক’ ব্লগারদের হত্যা করা হয়।