logo

কেচাপ ও কোমল পানীয় থেকে হতে পারে স্তন ক্যান্সার

কেচাপ ও কোমল পানীয় থেকে হতে পারে স্তন ক্যান্সার

বিভিন্ন খাবারে থাকা মিষ্টি উপাদানের কারণে মানুষের দেহে ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সম্প্রতি গবেষকরা জানিয়েছেন, কেচাপ ও কোকের মতো কোমল পানীয় থেকে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে অনেকে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টেলিগ্রাফ।

কোক ও কেচাপে পাওয়া বিশেষ ধরনের চিনি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন। এছাড়া একই ধরনের চিনি পাওয়া গেছে সিরিয়াল বার, ও বিস্কুটে। এ ধরনের স্তন ক্যান্সার পরবর্তীতে ফুসফুসের ছড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। একটি গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে।
গবেষকরা সুক্রোজভিত্তিক খাবার থেকে এ ঝুঁকি নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এ গবেষণা মূলত ইঁদুরের ওপর করা হয়। এতে দেখা যায়, সুক্রোজভিত্তিক খাবারে ইঁদুরের দেহে টিউমার ও অন্যান্য ক্যানসার ধরনের রোগ বেড়ে গেছে।

গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, ফ্রুকটোজভিত্তিক টেবিল সুগার ও কর্ন সিরাপ খাবারে থাকলে তাও ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।
এ বিষয়ে গবেষণাটি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের এমডি অ্যানডারসন সেন্টারের গবেষকরা। এতে তারা ইঁদুরের ওপর বিভিন্ন ধরনের খাবারের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন। এতে দেখা যায় এসব বিপজ্জনক খাবারের প্রভাবে ছয় মাস বয়সেই ৩০ শতাংশ ইঁদুরের দেহে টিউমারসহ নানা ধরনের ক্যান্সার সৃষ্টি হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের হার সবচেয়ে বেশি। এক্ষেত্রে ৫০ থেকে ৫৮ শতাংশ পর্যন্ত স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি লিপিবদ্ধ করা হয়।
গবেষকদলের একজন প্রফেসর লরেঞ্জো কোহেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এটি মূলত ফ্রুকটোসের জন্য হচ্ছে। মূলত টেবিল সুগার ও উচ্চমাত্রায় ফ্রুকটোসযুক্ত কর্ন সিরাপ আমাদের খাবারের জন্য হুমকিস্বরূপ। এতে ফুসফুসের রোগ ও স্তন ক্যান্সার হয়।’

গবেষণাপত্রটির সহ-লেখক ড. পেইং ইয়াং বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, এটি এ বিষয়ে প্রথম গবেষণা। এ গবেষণায় চিনির সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের সম্পর্ক জানা গেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ক্রমে বাড়তি মিষ্টিযুক্ত খাবার খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। বাড়তি মিষ্টি অতীতে স্থূলতা ও হৃদরোগের কারণ হিসেবে ধরা হলেও ক্যান্সারের বিষয়টি সেভাবে জানা যায়নি। এখন স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে মিষ্টি খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা বাদ দিতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে গবেষণার ফলাফলটি ক্যান্সার রিসার্চ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।