logo

ভারতে অসহিষ্ণুতা নেই। দাবি নতুন ভারতীয় আদনান সামির

ভারতে অসহিষ্ণুতা নেই। দাবি নতুন ভারতীয় আদনান সামির

নয়াদিল্লী, ০৩ জানুয়ারি- অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে সম্মাননা ত্যাগ করেছেন বহু বিশিষ্টজন। কিন্তু ভারতে নাগরিকত্বের নথিপত্র পেয়েই আদনান সামি আজ জানিয়ে দিলেন, ভারতে অসহিষ্ণুতা নেই!

পাকিস্তানি এই গায়কের কথায়, ‘‘ভারতে যদি অসহিষ্ণুতা থাকত, আমি ভারতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতাম না। আমি কোনও অসহিষ্ণুতা দেখিনি।’’ আমির এবং শাহরুখের সাম্প্রতিক মন্তব্য তো অন্য কথা বলছে! বলিউডের জনপ্রিয় এই গায়কের জবাব, ‘‘ওই মন্তব্য সম্পূর্ণই তাঁদের ব্যক্তিগত। তাঁদের নিশ্চয় তেমন অভিজ্ঞতা রয়েছে।’’ আজ সকালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজুর হাত থেকে তাঁর নাগরিকত্বের নথি সংগ্রহ করেন সামি। কৃতজ্ঞতা জানান ভারত সরকারকে।

রাজনীতির কারবারিদের একাংশের মত, বিজেপি এবং শাখা সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে যখন সংখ্যালঘুদের প্রতি অসহিষ্ণু আচরণের অভিযোগ উঠেছে এবং গোটা দেশ এই বিতর্কে সরগরম, তখন পাক গায়ককে নাগরিকত্ব দিয়ে সেই বিতর্ক চাপা দিতে চেয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। আর সহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে সামির দরাজ সার্টিফিকেট এ ক্ষেত্রে তাদের সাহায্যও করবে।

তবে সামির প্রশংসা পেলেও সমালোচনা এড়াতে পারছে না কেন্দ্র। কারণ, আরেক পাক-গায়ক রাহত ফতে আলি খানকে গত মঙ্গলবার হায়দরাবাদের রাজীব গাঁধী বিমানবন্দর থেকেই আবু ধাবিতে ফেরত পাঠানো হয়। পরে তিনি দিল্লি আসেন এবং সেখান থেকে হায়দরাবাদে যান, একটি অনুষ্ঠানে গান গাইতে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোদী সরকারকে কটাক্ষ করেছে শরিক শিবসেনাই। দলের নেত্রী মনীষা কায়াণ্ডের কথায়, ‘‘বিজেপি কেন্দ্রে বিরোধী আসনে থাকার সময় সামিকে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করেছিল। ক্ষমতায় এসে তারা সে কাজই করল। অথচ ফতে আলি খানকে ফেরত পাঠানো হল। জনগণ কিন্তু সবই দেখছে।’’

রাহত নিজে অবশ্য বিমানসংস্থাকে দোষ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘বিমানসংস্থারই জানা উচিত, ভারতে প্রবেশের জন্য পাক-নাগরিকেরা কোন কোন বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন। তাদের ভুলেই আমাকে ২৯ ঘণ্টা ঘুরতে হল।’’ প্রভারতীয় অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী, পাক নাগরিকেরা শুধুমাত্র দিল্লি এবং মুম্বই বিমানবন্দর দিয়েই ভারতে আসতে পারেন।

বিতর্ক তৈরি হয়েছে লেখিকা তসলিমা নাসরিন প্রসঙ্গেও। একটি সংবাদপত্রে আজ দাবি করা হয়, আদনানকে নাগরিকত্ব দিলেও তসলিমা নাসরিনকে ‘রেসিডেন্স পারমিট’ দেওয়ার বিষয়ে সরকারের দ্বিধা রয়েছে। কারণ, তিনি ‘বিতর্কিত’।  সেই খবরটি রিটুইট করে আজ তসলিমার টুইট, ‘অসাম্য, অবিচার, ধর্মীয় মৌলবাদ, নারীবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লেখালিখি করি বলেই আমি বিতর্কিত’।