logo

মানুষকে হাসানো কঠিন কাজ : তনিমা সেন

মনোজ বসু


মানুষকে হাসানো কঠিন কাজ : তনিমা সেন

কলকাতা, ০৩ জানুয়ারি- দক্ষ একজন কৌতুক অভিনেত্রী হিসেবে আজ দর্শকদের কাছে পরিচিত তিনি। নাটক, থিয়েটার, ছোটপর্দা কিংবা বড়পর্দা সব জায়গাতেই কৌতুকাভিনয়ে সমান পারদর্শী তিনি। পর্দায় মানুষকে কাঁদানোর চেয়ে হাসানো অনেক বেশি কঠিন। তাই তো ছোটবেলা থেকেই কৌতুক অভিনয়কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। দুই বাংলার হাসির জগতে জনপ্রিয় এই কৌতুকাভিনেত্রীর নাম তনিমা সেন। সম্প্রতি নিজের জীবনের অতীত থেকে বর্তমানের নানা কথা শোনালেন এই অভিনেত্রী।

অভিনয়ের শখ ছিল সেই ছোট বয়স থেকেই। সেই শখ প্রথমে তাঁকে টেনে নিয়ে যায় থিয়েটারে। তার পর থেকে ধীরে ধীরে জীবনে ঘটতে থাকে একের পর এক উত্তরণ। জানালেন, অভিনয় জীবনের শুরুটা ঘটেছিল ‘মেঘে ঢাকা তারা’ নাটকে নীতার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। তারপর সিরিয়াস চরিত্রের গণ্ডি পেরিয়ে কমিক রোলে অভিনয় করাটাই তাঁর জীবনের নাম, যশ ও শিল্পী সত্ত্বাকে টার্নিং পয়েন্ট এনে দেয়।

উত্তর কলকাতার এক বনেদি বাড়ির সবার আদরের ছোট মেয়ে ছিলেন তনিমা সেন। অতীত দিনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে নিজেই জানালেন, ‘আমাদের পরিবার ছিল ভীষণ আমুদে। হই-হুল্লোড় মজা চলত সারাক্ষণ। আমার দাদু-দিদিমাও রসবোধসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। আর ছোট বয়স থেকেই আমাকে অনেকেই মজার নানা বিষয় নকল করে দেখাতে বলতেন। আর বিভিন্ন বিষয়কে নকল করতে আমি খুব স্বচ্ছন্দ ছিলাম। তখন ভাবিনি এভাবে একদিন পর্দায় অজস্র মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়ে যাব।’

‘মেঘে ঢাকা তারা’ নাটকে নীতা চরিত্রে সিরিয়াস অভিনয় করার পরে একে একে অভিনয়জগতের দরজা খুলে যেতে থাকে তনিমা সেনের। এরপর তিনি কলকাতার বিশ্বরূপা থিয়েটারে অভিনেতা মনোজ মিত্রের নাটকে অভিনয় শুরু করেন। তারপর স্টার থিয়েটারেও কাজের সুযোগ পান তিনি। পরবর্তী সময়ে অভিনেতা চিরঞ্জিতের সঙ্গে ‘ঘর জামাই’ ছবিতে অভিনয় করে আলাদা পরিচিতি লাভ করেন।

তনিমার কাছে ছোটপর্দাই সবচেয়ে পছন্দের। তিনি বললেন, ‘দর্শকদের ভালোলাগা আর ভালোবাসা শিল্পীজীবনের পাথেয় এবং বিশেষ টার্নিং পয়েন্ট।’ অভিনয়জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে আজও সেই ছোটবেলাকার মতো সমানভাবে অভিনয় করতে ভালোবাসেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, আজকের জীবনযাত্রায় সামান্য সময়ের জন্য হলেও হাসি-আনন্দ দিয়ে যদি লোকের স্ট্রেস, যন্ত্রণা, ক্লান্তি ভুলিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে সেটাই যথেষ্ট। পর্দায় মানুষকে কাঁদানোর থেকে হাসানো অনেক কঠিন কাজ। তাই, যারা কৌতুক অভিনয় করেন তাঁদের কাজ কোনো অর্থেই সহজ নয়।

আর  সবশেষে নিজের মুখেই বললেন, ‘পর্দায় দর্শকদের হাসানোর পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও আমি কিন্তু হাসিখুশি থাকতে সর্বদাই পছন্দ করি।’