logo

সৌদি আরবকে ইরানের হুঁশিয়ারি, চরম মূল্য দিতে হবে

ওয়ারেছুন্নবী খন্দকার


সৌদি আরবকে ইরানের হুঁশিয়ারি, চরম মূল্য দিতে হবে

রিয়াদ, ০২ জানুয়ারি- সৌদি আরবে শিয়া ধর্মীয় নেতা নিমর আল নিমরার শিরশ্ছেদের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিমরাকে হত্যার জন্য সৌদি আরবকে ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।

দেশটির অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আহমাদ খাতামি বলেছেন, এ শিরশ্ছেদের ফলে সৌদি আরবের ক্ষমতাসীন পরিবারের পতন হবে। সৌদ পরিবারকে ধর্মদ্রোহী আখ্যা দিয়ে খাতামি আরো বলেন, ‘আমার কোনো সন্দেহ নেই, এই খাঁটি রক্ত সৌদ পরিবারে ধস নামাবে এবং ইতিহাসের পাতা থেকে তাঁদের সরিয়ে দেবে।’

সৌদি আরব শনিবার কয়েকজন আল-কয়েদা জঙ্গিসহ একজন প্রখ্যাত শিয়া নেতা নিরম আল নিমরার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের মতে, এতে করে সংকেত দেওয়া হয়েছে যে, তারা ‍সুন্নীপন্থী জিহাদি কিংবা সংখ্যালঘু শিয়াদের সমতা বিধানের বিষয়ে কারো আক্রমন গ্রাহ্য করবে না।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী সৌদি আরবের পশ্চিম প্রদেশের কাতিফ শহরের লোকজন নিমরার আল নিমারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল। তারা সৌদি রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে ‘ সৌদির রাজপরিবারের পতন হবে’।

এক দশক আগে কাতিফে আল কায়েদার হামলার পর এ বিচার করা হয়। নিমরাসহ চারজন শিয়ার বিরুদ্ধে পুলিশকে গুলি করার অভিযোগ রয়েছে। এটা সৌদি আরবের বিগত এক দশকের মধ্যে বড় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা।

সৌদি আরবের ১২টি শহরে এ বিচার করা হয়। চারজনকে ফায়ারিং স্কোয়াডে এবং অন্যদের শিরোচ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দেয়া হয়। সৌদি আরবের প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র ইরান এবং এর শিয়াপ্রধান সহযোগী সম্প্রদায়গুলো নিমরের মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অপরদিকে, প্রতিবাদের মুখে সৌদি পুলিশ শহরটিতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে যেখানে নিমরার অনুসারীদের বসবাস।

এই বিচার মূলত: সৌদি আরবের নাগরিকদের জিহাদী কর্মকান্ডকে নিরুৎসাহিত করার জন্য। কারণ, গত বছর সৌদি আরবে সুন্নী পন্থী ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বোমা ও গুলিবর্ষণে ডজনখানেক নাগরিকের মৃত্যু হয়। এরপর আইএস তাদের অনুসারীদের সেখানে অবস্থান ও হামলা পাকাপোক্ত করার ঘোষণা দেয়। এছাড়া ডিসেম্বরে আল-কায়েদার কোনো নেতাকর্মীকে শাস্তি দেয়ার বিরুদ্ধে সৌদি সরকারকে হুমকি দেয়া হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদের বেশির ভাগই ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে সিরিয়া এবং ইরাকে যখন সুন্নীপন্থী জিহাদী গ্রুপ আইএস সৌদি ক্ষমতাসীন রাজপরিবারের অবসান চায় এবং এজন্য তারা ইরানকে প্রভাব বিস্তারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় তখন থেকে সৌদি শাসক গোষ্ঠী কিছুটা হুমকির মুখে পড়ে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা ৪৭ জনের মধ্যে ৪৫ জন সৌদি নাগরিক, একজন মিশরের এবং একজন চাদের নাগরিক। ১৯৮০ সালের পর এটাই সৌদি আরবে সবচেয়ে বড় মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকরের ঘটনা। এর আগে ১৯৭৯ সালে মক্কার গ্রান্ড মসজিদ দখলের কারণে ৬৯ জিহাদির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

খবর: রয়টার্স