logo

জনগণ আমাদের বিরোধীদল মনে করে না

জনগণ আমাদের বিরোধীদল মনে করে না

ঢাকা, ০২ জানুয়ারি- জনগণ আমাদের বিরোধীদল মনে করে না। খবরের কাগজগুলোতে বিএনপিকে বিরোধীদল বলা হয়। কারণ, আমাদের ইমেজ সঙ্কট আছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগের কথাই কাগজগুলোতে আসে। জাতীয় পার্টির কথা আসে না। সত্যিকারের জনগণের কথা আমরা বলতে পারি না। কারণ, আমরা সরকারের মন্ত্রিসভায়ও আছি, আমি আবার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত।’ 

শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনে জাতীয় পার্টির ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।এরশাদ বলেন, ‘কী কারণে পৌর নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভরাডুবি হলো? কারণ, জনগণ আমাদের বিরোধীদল হিসেবে গণ্য করে না।’ 

এসময় এরশাদ মঞ্চে উপস্থিত রওশন এরশাদের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘উনি চাইলে আমি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ থেকে সরে দাঁড়াবো। এমনকি উনি চাইলে (মঞ্চে থাকা) আনিস সাহেবসহ সরকারে থাকা জাতীয় পার্টির সব মন্ত্রীও পদত্যাগ করবে। আর তাহলেই আমরা সত্যিকারের বিরোধীদল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবো।’

পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ‘আমাদের ৯৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচন কমিশন ১৮ জনের মনোনয়ন বাতিল করলেন। তিনজনকে জোর করে বসিয়ে দেয়া হলো, বাকি থাকলো ৭৩ জন। এ ৭৩ জন সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পারেননি।’ 

অভিযোগ করে এরশাদ বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়া হয়েছে, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অহেতুকভাবে মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। ভোট কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘রওশন এরশাদসহ অনেকেই বলেছেন, আমাদের সংগঠন দুর্বল। কথাটা অনেকাংশে সত্য। ২৭টি জেলায় আমাদের সংগঠন আছে, বাকি জেলায় নেই। আমি সংগঠন করতে গিয়ে আমার দলের দু’একজন ছাড়া কাউকে পাই না। ঢাকার বাইরে গেলে বিমানের টিকিটও আমাকে কিনতে হয়। আমি আর পারি না, আমার সে পরিমাণ অর্থ নেই। পৌর নির্বাচনে দলের কোনো শীর্ষ নেতা কোনো প্রার্থীকে সহযোগিতা করেননি এমনকি প্রার্থীদের এলাকায় গিয়ে কেউ প্রচারেও সহযোগিতা করেননি।’

তিনি বলেন, ‘আমি চাই, আমার সঙ্গে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং এমপিরা জেলা সফরে থাকুক। তাহলে দেশবাসী বুঝবে এরশাদের সঙ্গে অনেক মানুষ আছে।’

এরশাদ দুঃখ করে বলেন, ‘আমার এত বড় একটি পার্টি অফিস। কিন্তু কয়জন এমপি বা প্রেসিডিয়াম সদস্য পার্টি অফিসে আসেন? অথচ তাদের বসার জন্য আলাদা রুম আছে। আপনারা দয়া করে সপ্তাহে অন্তত একদিন হলেও পার্টি অফিসে আসেন। তাহলে কর্মীদের মাঝে উৎসাহ আরো বেড়ে যাবে।’

এরশাদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘১৯৮২ সালে বিচাপতি সাত্তার ক্ষমতা চালাতে না পেরে সেদিন আর্মির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন। আমি স্বৈরাচার হলে ৮৪ সালে নির্বাচন দিতাম না। জাতীয় পার্টির জন্ম হয় ১৯৮৬ সালে। তার তিন মাস পর আমি নির্বাচন দিয়েছি। জাতীয় পার্টির নাম কেউ মুছে ফেলতে পারবে না। ৬৪টি জেলা আর ৮৬০টি উপজেলা এর সাক্ষী।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলার মাধ্যমে আমি তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের কাছে ক্ষমতা পৌঁছে দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ উপজেলা আছে কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানদের কোনো ক্ষমতা নেই।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্য বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টির দুর্দিনে যারা অবদান রেখেছে তাদের আমাদের স্মরণে রাখতে হবে। বিশেষ করে মিজান চৌধুরী এবং কাজী জাফরের অবদান অস্বীকার করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করে ভোটকেন্দ্রে পাহারা দিতে হবে। কেউ যেন জনগণের ভোট জালিয়াতি করে না নিতে পারে।’

সভায় আরো বক্তব্য দেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, সাইদুর রহমার টেপা, এসএম ফয়সল চিশতি প্রমুখ।