logo

‘কে কোন লিঙ্গের সেটি বড় কথা নয়’

‘কে কোন লিঙ্গের সেটি বড় কথা নয়’

কলারোয়া, ০২ জানুয়ারি- সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে কলারোয়ার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে মাত্র ৬৬ ভোটে হেরে যাওয়া তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া সম্প্রদায়) প্রার্থী দিথি বলেন, ‘আমার ভোট চুরি হয়ে গেছে। তবুও জয়-পরাজয় থাকবে। এটাই স্বাভাবিক। তাই বলে তো জীবন থেমে থাকে না। নতুন দিনের নতুন স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা কে কোন লিঙ্গের সেটি বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, মানুষ হিসেবে আমরা একই স্রষ্টার সৃষ্টি। সমতার সমতলে একদিন আমরা মিলবই।’  

নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন ‘আমি হেরেছি ভোটে। কিন্তু মানুষের মন তো জয় করতে পেরেছি। কারণ তারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। আমাকে ভালোবেসে আমার প্রতীকে সিল মেরেছেন। এটাই আমার কাছে বড় বিজয়। আমার কর্মী-সমর্থকরা নারী পুরুষ ভেদে ভোটারদের কাছে গিয়ে আমার জন্য ভোট চেয়েছেন। এটা কি কম পাওয়া? আমি আমার এলাকার ভোটারদের কাছে ঋণী’।

দিথি বলেন,‘সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে নানা ধরনের বিরূপ সমালোচনা হয়। বহির্বিশ্বে তাকিয়ে দেখুন তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যদের সাফল্যের চিত্র। বাংলাদেশেও এ চিত্র দৃশ্যমান। আমাদের আরো উৎসাহ জোগালে আর সহযোগিতা দিলে আমরাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে আকাশচুম্বী সাফল্য দেখাতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মানসিকতার এখনো পরিপূর্ণ বিকাশ হয়নি। সমাজে এখনো রক্ষণশীল কিছু মানুষ আছে। তারা এখনো সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।নির্বাচনের আগে এলাকায় তার গণজোয়ার দেখে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফলে তারা কোথাও কোথাও প্রভাব খাটিয়ে অপপ্রচার চালায়। এতে করে নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে সাধারণ ভোটাররা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়।’ 

পৌর নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দিথি আরো বলেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার একদিন অর্জিত হবেই। মানুষের ভালোবাসাই আমাকে আগামীর পথ চলার সাহস যোগাবে। মানুষের ভালোবাসা নিয়েই আমি এগিয়ে যাব। গরীব-দুঃখী, মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফুটবেই।’ 

প্রসঙ্গত, গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে কলারোয়া পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডে চুড়ি প্রতীক নিয়ে দিথী পেয়েছেন  এক হাজার ৫৭৮ ভোট। অপরদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লুৎফুননেসা বেগম এক হাজার ৬৪৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এই ওয়ার্ডে অপর প্রার্থী শাহনাজ পারভীন পেয়েছেন ৯৯০ ভোট।