logo

কেবলই লেট হয়ে যান আপনি? দেখে নিন এই টিপসগুলো

কে এন দেয়া


কেবলই লেট হয়ে যান আপনি? দেখে নিন এই টিপসগুলো

পার্টিতে ফ্যাশনেবলি লেট হওয়া এক কথা, কিন্তু ইন্টার্ভিউ, মিটিং এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য লেট করাটা রীতিমত অপরাধের পর্যায়ে চলে যায়। কেউ কেউ ভীষণ চেষ্টা করেও কিছুতেই সময়মত কাজ শেষ করতে পারেন না। এখন হয়তো আপনার কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করার সময় হয়েছে। যেসব মানুষ সময়ের কাজ সময়ে করে ফেলতে পারে, তাদের কিছু অভ্যাস জেনে নিন এবং এগুলো আয়ত্তে নিয়ে আসুন আপনিও।

১) তারা বাস্তব চিন্তা করেন
সবসময় কেন লেট হচ্ছেন আপনি? হয়তো আপনি ধরে নিচ্ছেন গোসল করে রেডি হয়ে বের হতে আপনার ঘণ্টাখানেক লাগবে, অথচ লেগে যাচ্ছে তিন-চার ঘন্টা! যারা পাংচুয়াল, তারা জানেন রেডি হতে তাদের কতোটা সময় লাগবে এবং সেই অনুযায়ী তারা আগে থেকেই রেডি হয়ে যান। অনেক সময়ে তারা অতিরিক্ত সময় হাতে রেখে রেডি হন যাতে কোন কারণে সময় একটু বেশি লাগলেও সমস্যা না হয়। আপনারও এমন বাস্তবিক চিন্তা করা উচিৎ।

২) তারা দুর্ঘটনার জন্য প্রস্তুত থাকেন
বাড়ি থেকে বের হলে অনেক কারণেই দেরি হতে পারে। ট্রাফিক জ্যাম, রাস্তা ভুল হওয়া, স্যান্ডেল ছিঁড়ে যাওয়া, ভুলে বাড়িতে কিছু রেখে আসা আরও কতো কী! এর জন্য একটু অতিরিক্ত সময় সব সময়েই হাতে রাখা উচিৎ কারণ বিপদ কখনো বলে কয়ে আসে না। একটু আগে পৌঁছে গেলে সমস্যা নেই, দেরি হলেই সমস্যা।

৩) তারা অপেক্ষা করতে পারেন
পাংচুয়াল মানুষেরা একটু সময় হাতে নিয়ে বের হন, ফলে অনেক সময়েই তারা আগে আগে গন্তব্যে পৌঁছে যান। এটা কিন্তু আসলে খারাপ নয়। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করতে তাদের কোন আপত্তি থাকে না। এ সময়েই কিন্তু তারা টুকটাক কিছু কাজ করে ফেলেন। যেমন ইমেইল চেক করা, একটু বই পড়া, কী নিয়ে কথা বলবেন সেটা নিয়ে চিন্তা করা ইত্যাদি। এই কাজটি আপনিও করে ফেলতে পারেন। ব্যাগে রাখতে পারেন বই বা একটা নোটখাতা, কলম, একটা নিউজপেপার।

৪) তারা সবকিছু পরিকল্পনামতো করেন
সময়মত কাজ করতে পারা মানে জীবনের সব কিছুই পরিকল্পনামতো করা। তাদের জীবন অনেক সাজানো গোছানো হয়, এর মাঝে কোন হুড়োহুড়ি, শেষ মুহূর্তের বিভ্রান্তি থাকে না। তারা প্রতিদিন কী করবেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার পরিকল্পনা করা থাকে। কবে কোন অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং মিটিং আছে তা ক্যালেন্ডারে ঠিক করে রাখেন তারা। এতে সময়ের কাজ সময়ে করতে সুবিধা হয়।

৫) তারা কাজ ফেলে রাখেন না
শুক্রবারের মাঝে কাজ শেষ করতে হবে। আপনি আজ করবো কাল করবো করতে করতে দেখলেন বৃহস্পতিবার এসে গেছে। এবার তো ঘুম হারাম করে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে কাজ শেষ করলেন, অথবা শেষ করতেই পারলেন না। এমনটা কী প্রায়ই হয় আপনার জীবনে? তাহলে পাল্টে ফেলুন আপনার এই অভ্যাস। সময়ানুবর্তী মানুষ কখনো কাজ ফেলে রাখেন না। সময়ের আগেই তারা কাজ শেষ করে ফেলেন। ছোটখাটো কাজও তারা আগে থেকে করে রাখেন। সকালে উঠে কী খাবেন, কী পোশাক পরবেন সেটাও আগের রাত্রে ঠিক করে রাখেন যাতে সকালে তাড়াহুড়ো করা না লাগে।

৬) তারা তাড়াতাড়ি ঘুমান
আমরা কেন রাত জাগি? কারণ সময়মত কাজ না করার ফলে রাত জেগে তা শেষ করতে হয়। সময়ানুবর্তী মানুষ সময় থাকতে কাজ শেষ করে ফেলেন। ফলে তাদের এই সমস্যা নেই। তারা দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েন এবং পরিমাণমতো ঘুমাতে পারেন।

৭) তারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন
দ্রুত ঘুমাতে যাবার ফলে তারা সকালেও ঘুম থেকে ওঠেন দ্রুত। ফলে তারা অফিস-আদালতে সময়মত পৌঁছাতেও পারেন ঠিক সময়ে। আপনার আমার মতো অ্যালার্ম বাজার পরেও তারা ঘুমিয়ে থাকেন না। ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হলে সময়মত ঘুমাতে যান, রাত জেগে মোবাইল/ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না।
জানতে পারলেন তো সময়ানুবর্তী হবার কৌশলগুলো? এগুলো নিজের ওপরে প্রয়োগ করুন এখন। আপনি জীবনেও আর লেট হবেন না সেটা বলা যায় না। তবে এত ঘন ঘন লেট যে হবেন না তা নিশ্চিত হয়েই বলা যায়।

লিখেছেন- কে এন দেয়া