logo

সৌদি বাবাকে ফিরে পেতে চান ফিলিপিনো ছেলে

সৌদি বাবাকে ফিরে পেতে চান ফিলিপিনো ছেলে

ম্যানিলা, ০২ জানুয়ারি- তার নাম ইলিয়ান ক্রিস আল্লাফি। আরবিতে ওলিয়ান আল আফি। এটি যে সৌদি নাম সেটি তার জানা ছিল না। এখন অবশ্য অনেক কিছুই জানেন। জানেন বলেই তো ফিরে পেতে চান নিজের পিতৃ পরিচয়। বাবার কোলে মাথা রেখে অন্তর জুড়াতে চান ৩১ বছরের ওলিয়ান। তাইতো দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বাবাকে খুঁজে চলেছেন এই ফিলিপিনো যুবক।

তার ফিলিপিনো মায়ের সঙ্গে ওই সৌদি নাগরিকের পরিচয় ও বিয়ে অনেকটা রূপকথার মতই। ১৯৮৩-৮৪ সালের দিকে এক বন্ধুর মাধ্যমে দুজনের পরিচয়। প্রথম দেখাতেই প্রেম এবং কিছুদিনের মধ্যেই সৌদি ব্যবসায়ীর সঙ্গে গাটছড়া বাঁধেন ফিলিপাইনের ওই তরুণী। গর্ভবতী অবস্থায় তাকে ছেড়ে যান তার প্রিয় পুরুষ। এরপর স্ত্রী ও সন্তানের আর কোনো খোঁজ নেননি।

বড় হওয়ার পর মায়ের মুখে বাবার সম্পর্কে জানতে পারেন ওলিয়ান। এরপর মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বাবার খোঁজ করতে শুরু করেন। এখন তিনি ৩১ বছরের যুবক। ইতিমধ্যে বিয়ে করেছেন। তিনি নিজেও একজন বাবা। স্ত্রী আর এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সাজানো সংসার। সৌদি পিতার নামানুসারেই তাদের নাম রেখেছেন। একজনের নাম ইলিয়ান রাশেদ আল্লাফি আর অন্যজন জাইনাহ হাদিয়াহ আল্লাফি। কিন্তু সন্তাদের অপার্থিব সান্নিধ্যও তার বাবার অভাব ভুলাতে পারেনি।

তাইতো এখনো বাবার সঙ্গে দেখা করার জন্য মুখিয়ে আছেন ওলিয়ান। কিন্তু তার প্রতীক্ষার প্রহর যে আর শেষ হতে চায় না। কতবার যে ছুটে গেছেন ম্যানিলার সৌদি দূতাবাসে তার ইয়াত্তা নেই। দূতাবাসের কর্মকর্তারা তার ‘ইচ্ছে করে হারিয়ে যাওয়া’ বাবাকে খুঁজে দেয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এরপর মালয়েশিয়ার সৌদি দূতাবাসেও গিয়েছিলেন তিনি। তারাও তাকে কোনো আশার আলো দেখাতে পারেনি।

অবশেষে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের আশ্রয় নিয়েছেন। সম্প্রতি সৌদি দৈনিক ‘আরব নিউজ’য়ের কাছে একখানা চিঠি পাঠিয়েছেন ওলিয়ান। সেখানে তিনি লিখেছেন,‘আমি একজন ফিলিপিনো নাগরিক। গর্ভবতী অবস্থায় মাকে ছেড়ে গিয়েছিলেন আমার বাবা। আর কখনো ফিরে আসেননি। আমি কখনো তাকে দেখিনি। আমি তাকে দেখতে চাই। একবার বাবা বলে ডাকতে চাই। প্লিজ, আপনারা আমাকে সাহায্য করুন।’

বাবাকে পাওয়ার জন্য কিনা করেছেন এই ফিলিপিনো যুবক! খ্রিস্টান সমাজে বেড়ে ওঠা এই যুবক ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। কিন্তু বাবার পরিচয় জানার পর স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হন। ২০০৫ সালে মালেশিয়া সফরের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

ওলিয়ানের কাছে তার বাবার স্মৃতি বলতে একখানা প্রেমপত্র যা তার মাকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছিল। তার বাবা রিয়াদ থেকে নিজের প্রেমময়ী স্ত্রীকে লিখেছিলেন ওই আবেগপূর্ণ চিঠি। আর কোনো প্রমাণই নেই। কিন্তু আশা হারাতে রাজি নন এই যুবক।

একদিন না একদিন তিনি নিখোঁজ বাবাকে খুঁজে পাবেন - এই স্বপ্নই দেখে চলেছেন ওলিয়ান। তার ভাষায়,‘বাবাকে তো আমি খুঁজে বের করবই।’ নিজের এই স্বপ্ন পূরণ হওয়ারই পরই তিনি পা রাখবেন পবিত্র নগরী মক্কায়। বাবকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ পালন করবেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে কেবল এটুই  চাওয়া পরিত্যক্ত সন্তানের।