logo

বন্দুক নিয়ন্ত্রণে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালেন ওবামা

বন্দুক নিয়ন্ত্রণে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানালেন ওবামা

বন্দুকের দোকানে দুই মার্কিন নাগরিক, ছবি: গেটি ইমেজ

ওয়াশিংটন, ০২ জানুয়ারি- আমেরিকায় বন্দুক ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে আইন প্রণয়নে ব্যর্থ হয়ে এবার নির্বাহী ক্ষমতা আরোপের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। নতুন বছরের প্রথম সাপ্তাহিক ভাষণে তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কথা বলতে তিনি এটর্নি জেনারেল লরেটা লিঞ্চ এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বন্দুক ব্যবহারকারী এবং রিপাবলিকানেদর বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করে দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তবে ওবামা বলেছেন, আইন পাশের তাগিদ দিয়ে তিনি পিতামাতা, স্কুল শিক্ষক এমনকি শিশুদের কাছ থেকেও প্রচুর চিঠি পেয়েছেন তিনি।

সাপ্তাহিক ভাষণে ওবামা বলেন, ‘আমরা জানি যে আমাদের পক্ষে প্রতিটি সহিংসতা এড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা যদি একটিও থামানোর চেষ্টা করতাম তবে কী হতো? আমাদের বাচ্চাদের বন্দুকধারীদের সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে কংগ্রেস যদি কিছু করতো তবে কী হতো?’

সাপ্তাহিক ওই ভাষণে ওবামা বন্দুকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কমন সেন্স গান ল’ নামের আইনটি পাশ করতে না পারাকে তার সময়েরে সবচেয়ে বড় হতাশা বলে উল্লেখ করেন। তবে এজন্য তিনি কংগ্রেসের অসহযোগিতাকে দায়ি করেন।

নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে বন্দুকের ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ কতটা করা যাবে সে বিষয়ে ওয়াশিংটন থেকে বিবিসির সংবাদদাতা লরা বিকার জানিয়েছেন, ‘বন্দুক কিনতে আগ্রহীদের পূর্ব ইতিহাস সম্পর্কে খোঁজ নেয়াসহ কিছু ক্ষেত্রে নির্বাহী কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রন আনতে পারে।’

তবে এরই মধ্যে পাল্টা প্রচারণার অংশ হিসেবে ন্যাশনার রাইফেল এসোসিয়েশন বন্দুক নিয়ন্ত্রন কর্মকান্ডকে সমালোচনা করে একটি ভিডিও সিরিজ চালু করেছে।

গত মাসে টেক্সাস পুলিশ প্রধান প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন বন্দুক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রন আরোপের চেষ্টা বিপ্লবের সূচনা করতে পারে। ওপেন ক্যারী আইনের (open carry law) আওতায় টেক্সাসের অধিবাসীরা প্রকাশ্যে তাদের অস্ত্র প্রদর্শন করতে পারে।

২০১৩ সালে কানেকটিকাটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র হামলায় ২০ শিশুসহ ২৬জন নিহত হওয়ার ঘটনার পরেও ডেমোক্রাট এবং রিপাবলিকানদের যৌথ বিল প্রয়োজনীয় ৬০ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে বন্দুক বিক্রির আগে ব্যবহারকারীর পূর্ব ইতিহাস সম্পর্কে খোঁজ নেয়া এবং হামলায় ব্যবহুত অস্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধের আইন পাশ আটকে যায়।