logo

ঘটনাবহুল বছরে বিশ্ব যা দেখেছে

ঘটনাবহুল বছরে বিশ্ব যা দেখেছে

ঢাকা, ০১ জানুয়ারি- অভিবাসীদের জীবন সংগ্রাম, আইএসসহ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর ভয়াবহতা থেকে শুরু করে ভিনগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনা; সবই দেখেছে ২০১৫। ছিলো আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তিক্ততা, সন্ত্রাসবাদ রোধ ও জলবায়ু রক্ষায় একাত্মতা।

২০১৫-তে বার বার শিরোনাম হয়েছেন অভিবাসীরা। মালয়েশিয়া-অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমাতে গিয়ে ভারত মহাসাগরে প্রাণ হারান হাজারো অভিবাসী। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে পাড়ি জমাতে গিয়েও প্রাণ হারিয়েছেন বহু।


তবে শেষ পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর এঞ্জেলা মেরকেল এঞ্জেল হিসেবে আর্বিভূত হন অভিবাসীদের জন্য। তারই নেতৃত্বে জার্মানীসহ ইউরোপ দরজা খুলে দেয় তাদের জন্য। প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী ইউরোপে ঢোকেন, যার অর্ধেকই সিরিয়ার।

২৫ এপ্রিল নেপালে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মৃত্যু নাড়া দেয় পৃথিবীকে। দুইবার বিপর্যয়ের শিকার হন হাজীরা। প্রথমে মক্কায় ক্রেন ভেঙে পড়ে ১১১ জনের মৃত্যু, এরপর মিনায় পদপিষ্ট হয়ে প্রায় আড়াই হাজারের মৃত্যু।


বিমানযাত্রীদের জন্য ছিলো আতংকের বছর ২০১৫। ফেব্রুয়ারিতে তাইওয়ানে ট্রান্স এশিয়ার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৪৩ জন নিহত হয়। মার্চে জার্মানউইঙ্গসের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দেড়শ’ মানুষের মৃত্যু হয়।

জুনে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারান ১৪৩ জন। অক্টোবরে মিশরে রুশ বিমান বিধ্বস্তে ২২৪ আরোহীর মৃত্যু হয়।


২০১৫-তে ত্রাস সঞ্চার করেছে জঙ্গিবাদ। অপহৃত পশ্চিমা নাগরিক অপহরন ও হত্যা ছেড়ে বড় হামলার পথ ধরে ইসলামিক স্টেট - আইএস। রমজান মাস চলাকালেই সিরিয়া, তিউনিসিয়া আর কুয়েতে আইএসের হামলায় আড়াইশ’রও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। এপ্রিলে কেনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-শাবাবের হামলা কাড়ে ১৪৮ প্রাণ। অক্টোবরে তুরস্কে র‌্যালিতে আত্মঘাতী হামলায় মারা যান ১শ’ জন।

একবইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী উদ্যোগও ছিলো সন্ত্রাসবাদ দমনে। সেপ্টেম্বরে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী হামলা শুরু করে রাশিয়া। রুশ জঙ্গি বিমান ভ’পাতি করার ঘটনায় সম্পর্কের তলানিতে পৌঁছায় রাশিয়া-তুরস্ক। জুলাইতে জোড়া লেগে ৫৪ বছর বিচ্ছিন্ন যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্ক। মিয়ানমারে ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয় পান অং সান সু চি।


২০১৫-তে বিশ্বের ভীত নাড়িয়ে গেছে ১৩ নভেম্বর ফ্রান্সের প্যারিসে আইএস এর হামলায় ১৩০ জনের মৃত্যু। ফ্রান্সের পাশে দাঁড়ায় পুরো বিশ্ব।

সফল পরিণতি পায় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন। পৃথিবীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন বিশ্বনেতারা। আর মঙ্গলে নাসা’র তরল পানির সন্ধান এ বিশ্বের বাইরে ‘নতুন পৃথিবী’র স্বপ্ন দেখায়।