logo

গভীর রাতে গুলশানে মাদক সম্রাজ্ঞী ইডেন ডি’সিলভা!

গভীর রাতে গুলশানে মাদক সম্রাজ্ঞী ইডেন ডি’সিলভা!

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর- গুলশান অভিজাত পাড়ায় মধ্যরাতে দেখা মেলে সুন্দরীদের। যারা টাকার বিনিময়ে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হন। এদেরই একজন ১৯ বছর বয়সী ইডেন ডি’সিলভা ওরফে রামিসা সিমরান। অনেকে তাকে ইয়াবা সুন্দরী নামেও ডেকে থাকেন।

সম্প্রতি তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন চুরির মামলায়। দাবি করা হচ্ছে মাদকের সঙ্গে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাছাড়া ভার্চুয়াল জগতে তার ইয়াবা সেবনের ছবিও রয়েছে।

এ বিষয়ে গুলশান থানার এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গুলশানে প্রায় সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি আসেন। সারারাত বিভিন্ন জাগায় সময় কাটান। শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় গুলশান ১৭ নম্বর সড়ক থেকে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়।

তিনি জানান, গ্রেফতার পরেই অভিযুক্তকে কোর্টে পাঠিয়ে রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু রিমান্ড নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর তাকে কোর্টে তোলা হবে এবং আবারও রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানায় তার নামে মামলা রয়েছে। মামলার নথিগুলো শিগগিরই সংগ্রহ করা হবে।

মূলত ২ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় ৩৮০/৫০৬ ধারায় (মামলা নং-১, তারিখ ২/৯/১৮ইং) মামলার প্রেক্ষিতে ডি’সিলভাকে আটক করা হয়।

পুলিশের কাছে অভিযোগ রয়েছে, এই ইয়াবা সুন্দরী প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

তার চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও ইডেন ডি সিলভা বরাবরই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাগালের বাইরে থেকে গেছেন। অবশেষে শুক্রবার পুলিশের জালে তিনি গ্রেফতার হন।

চুরির মামলার বিবরণীতে জানা গেছে, গুলশানের এক ধনাঢ্য পরিবারের সঙ্গে গত বছর জুলাই মাসে ইডেন ডি’সিলভার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে তিনি বিভিন্ন সময় ওই পরিবারে আসা-যাওয়া করতেন।

এরই এক পর্যায়ে কৌশলে ডি’সিলভা তিন লাখ টাকা মূল্যের একটি ডায়মন্ডের আংটি চুরি করে। এরপর মার্চ মাসে ২৮ লাখ টাকা মূল্যের সুইজারল্যান্ডের তৈরি হাবলট ব্র্যান্ডের ঘড়িও চুরি করে।

মামলার বাদী জানান, ঘড়ি সম্পর্কে ইডেন ডি’সিলভাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন। পরে গুলশানের বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে ইডেন ডি’সিলভার হাতে ঘড়িটি তিনি দেখতে পান। এ বিষয়ে তখন জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ঘড়িটি ব্যবহার করার জন্য নিয়েছিলেন, পরে ফেরত দিয়ে দেবেন বলে জানান ডি’সিলভা।

মামলার বিবরণীতে আরও অভিযোগ করে লেখা হয়েছে, মামলার বিবাদী বিভিন্ন সময় ব্যবহারের কথা বলে অনেক মূল্যমান ব্র্যান্ডের জুতা, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি নিয়ে আর ফেরত দেয়নি।

যার আনুমানিক মূল্য পাঁচ লাখ টাকা। সব মিলে ৩৬ লাখ টাকার মালামাল ‘লুণ্ঠন’ করা হয়েছে বলে মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী শেষাংশে উল্লেখ করেছেন, বর্ণিত বিবাদী একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য।

তারা দীর্ঘদিন ধরে গুলশানে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক করে কৌশলে মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে যায়। তাদের থেকে আমার মালামাল ফেরত চাইলে আমাকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।

মামলায় ইডেন ডি’সিলভা ও নিশাত মিমের নাম উল্লেখ করা হলেও পুলিশ শুধুমাত্র ইডেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইডেন ডি’সিলভা যেসব জিনিসপত্র নিয়েছেন সেগুলো উদ্ধার করার চেষ্টা করছি। সে খুব চতুর। কোনো কিছুই সহজে স্বীকার করতে চাচ্ছেন না।

তথ্যসূত্র: বিডি২৪লাইভ
আরএস/ ১০ সেপ্টেম্বর