logo

বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের জন্য শুভেচ্ছা

জিয়াউদ্দীন আহমেদ


বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের জন্য শুভেচ্ছা

বিশ্ব সিলেট সম্মেলন আগামী ১ ও ২ সেপ্টেম্বর কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে।

জাতিধর্ম-নির্বিশেষে সিলেটের বাঙালিরা নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার আগ পর্যন্ত ‘সিলেট সম্মেলন’ নাম দিয়ে একটি সমাজ উন্নয়ন কর্মসূচি ও মিলনমেলার আয়োজন করছিলেন। সিলেটের মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া সত্ত্বেও নিজস্ব ঐতিহ্যের আলোয় উদ্ভাসিত হন। তার সূত্র ধরে কয়েক বছর আগে কলকাতায় দক্ষিণ কলকাতা সিলেট অ্যাসোসিয়েশন ‘সিলেট উৎসব’ নাম দিয়ে শুরু করে একটি কার্যক্রম।

কলকাতায় শুরু হলেও তারা বাংলাদেশের মানুষ ও ঢাকার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনকে সম্পৃক্ত করে। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ঢাকায় এবং সিলেটে বৃহৎ আকারে ‘আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার উদ্যোগে নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশ্ব সিলেট সম্মেলন’।

এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সিলেটের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া সিলেটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা। পৃথিবীর বহু জায়গা থেকে সিলেটি ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী মানুষের আন্তরিকতায় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জন্ম নেয় একটি আন্দোলনের। হাজার হাজার মানুষের গুঞ্জরণে রচিত হয় একটি অভূতপূর্ব অধ্যায়।

এই সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল প্রবাসীদের সম্পৃক্ততায় সিলেটের সর্বাধিক উন্নতির জন্য চিন্তাভাবনা। এজন্য আয়োজন করা হয়েছিল কয়েকটি সেমিনারের। আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিভিন্ন পেশার তরুণ পেশাজীবীদের সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং তাঁদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় ভবিষ্যতের কার্যপ্রণালি প্রণয়নের চিন্তাভাবনা।

দেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন শুধু সরকারের ওপর দায়-দায়িত্ব না দিয়ে সব মানুষ কমপক্ষে নিজের অঞ্চলে কাজ করার জন্য উৎসাহিত হয়। প্রবাসীদের বেলায় এটি আরও প্রযোজ্য। ২০০৮ সালে ঢাকায় প্রথম বৃহৎ অনাবাসী (এনআরবি) সম্মেলনে যে অনুপ্রেরণা উৎসারিত হয়েছিল, আজ তার বহিঃপ্রকাশ হবে, যদি অনাবাসীরা নিজস্ব অঞ্চলের উন্নতির জন্য উদ্যোগ নেন। সিলেট বিশ্ব সম্মেলন শুধু সিলেটি মানুষের আঞ্চলিক মিলনমেলা নয়, এটা সব বাঙালির বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার একটি মিলনমেলা।


এবার কানাডার টরন্টোতে ‘বিশ্ব সিলেট সম্মেলন’ আরেকটি ধাপ এগিয়ে গেছে। এবারে সত্যি সত্যিই বিশ্ব সম্মেলনের অনুভাবে সাজানো হয়েছে সম্মেলন; যেন ভবিষ্যতে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ে। সেই সূত্রে সম্মেলনের উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন কানাডার নয় বরং বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। একটি আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে; যার চেয়ারম্যান হয়েছেন ঢাকার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি সি এম তোফায়েল সামি।

বিভিন্ন দেশ থেকে সদস্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে একটি প্রাথমিক কমিটি। সম্মেলনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিকমানের সেমিনারে অংশ নেবেন পৃথিবীর বহু জায়গা থেকে আগত গুণীজন, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের উদীয়মান প্রজন্ম। তাঁরা দেশ ও প্রবাসের বিভিন্ন দিক নিয়ে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করবেন এবং আগামীর জন্য দিকনির্দেশনা দেবেন। আসামের ‘বাঙালি খেদা’ সংকট ও আন্দোলনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্যও থাকবে বিশেষ ভূমিকা।

তা ছাড়া ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও সংস্কৃতির ভেতর দিয়ে, ভালোবাসা ও আত্মীয়তার বন্ধন সুদৃঢ় করে অসাম্প্রদায়িকতার সুন্দর মানসে ধীরে ধীরে গড়ে উঠবে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সব বাঙালির সরব ও প্রাণচঞ্চল পদচারণে এবং সুন্দর ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সফল হোক এই সম্মেলন।

আর/১০:১৪/২৭ আগস্ট