logo

আমি শুধু নিজেরটুকু নিয়ে ভাবি: জয়া আহসান

আমি শুধু নিজেরটুকু নিয়ে ভাবি: জয়া আহসান

বিরসা দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘ক্রিসক্রস’ সিনেমাটি চলতি মাসের ১০ তারিখ মুক্তি পেতে চলেছে। সেই ছবির ‘মিস সেন’ অর্থাৎ জয়া আহসান সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তাই পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

মিস সেন কেমন আছেন?  

জয়া আহসান ভালো। আপনারা মিস সেনকে দেখুন ১০ আগস্ট। মিস সেনের আরও ভাল লাগবে।
মিস সেন, অর্থাৎ বিরসা দাশগুপ্তর মিস সেন।  

‘ক্রিসক্রস’-এর মিস সেন। তিনি কেমন মানুষ?

এক কথায় স্টাবার্ন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট, বোল্ড, ভয়েজ রেজ করে কথা বলে। আমার সঙ্গে বেশ কিছুটা অংশে মিল নেই।

তাই? হ্যাঁ, আসলে আমার স্টাইলটা অন্য রকম। আর মিস সেনকে অন্য ভাবে প্রজেক্ট করেছি। তবে যতটা স্ক্রিপ্ট শুনেছিলাম এই ছবিতে সব চরিত্রের ভেতর এটাই আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে। এমন চরিত্র আগে করিনি। 
পাঁচটি মেয়ের গল্প, এখনকার ইন্ডাস্ট্রিতে সেটাও তো অন্য রকম!

দেখুন, ফিমেল অ্যাক্টরদের একটা ক্ষোভ সব জায়গায় থাকে, উওম্যান সেন্ট্রিক কাজ কম হয়। মেল ডমিনেটিং টেনডেন্সি তো আছেই। সে জায়গা থেকে ভাল লেগেছে। পাঁচটা মেয়ের চরিত্র, অভিজ্ঞতা, জার্নি কেউ না কেউ রিলেট করতে পারবে। কার না পাওয়ার পেন্ট করতে ভালো লাগে বলুন।

বিরসার সঙ্গে তো আপনার প্রথম কাজ?

হ্যাঁ। বিরসা খুব সর্টেড। ও জানে ও কী চায়। খুব অল্প সময়ে কাজ তুলে নেয়। ওর টিমও খুব ভাল। সব ইয়ংরা কাজ করছে। নতুনদের সঙ্গে কাজ করার আলাদা এনথু থাকে।

‘ক্রিসক্রস’-এর ট্রেলারে যে কস্টিউমে আপনাকে দেখা যাচ্ছে, তেমন কিন্তু আপনাকে আগে দেখেননি দর্শক।
এটাই রিয়েল জয়ার কস্টিউম। আসলে কি হয়েছে, আমাদের কস্টিউম করেছে জয়ন্তী, খুব ভাল কাজ করেছে। কিন্তু আমার এত তাড়াহুড়ো ছিল। তখন আমার ওয়ার্ড্রোবের সঙ্গে কিছু মিলে গেল। ও অ্যাপ্রুভ করল। আমিও পরে নিলাম। ওগুলোই আসলে আমি।

এই যে আরও অনেকের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে নেওয়া, সমস্যা মনে হয়নি?

দেখুন, ‘রাজকাহিনি’-তে আরও ছোট জায়গা ছিল। ছোট জায়গায় নিজেকে প্রমাণ করাটা বেশি চ্যালেঞ্জিং। তা ছাড়া যখন আমি কোনও চরিত্র করব বলে রাজি হই, তখন অন্যদের নিয়ে ভাবি না। কে কত স্ক্রিন প্রেজেন্স পেল, কার কত প্রোমোশন হল ভাবি না। আমি শুধু নিজেরটুকু নিয়ে ভাবি। এটা আমার স্কুলিং।

পাঁচ জন অভিনেত্রী একসঙ্গে, ঝামেলা হত কি?

অনেকেরই এমন ধারণা আছে। কিন্তু আমাদের তো কোনও ঝামেলা হয়নি। ওদের সঙ্গে কাজ করে আমার খুব ভাল লেগেছে। মিমি, নুসরাতের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। তবে আগে থেকেই আলাপ ছিল। আর সোহিনী, প্রিয়াঙ্কা তো আগের বন্ধু। আমাদের সবার শুটিং একসঙ্গে ছিল এমনও নয়। দু’-তিন দিন ছিল একসঙ্গে। এখানে ঋদ্ধিমাও রয়েছে। ও আমার খুব কাছের। শুটিং শেষ করার পর আফটার পার্টিও হত আমাদের।

আপনার আগে এই চরিত্রে অন্য এক অভিনেত্রীকে ভাবা হয়েছিল, জানেন?

হুম জানি।

সেটাতে সমস্যা হয়নি?

না সেটা নিয়ে সমস্যা হয়নি। ওরা নিশ্চয়ই তখন অন্য ভাবে ভেবেছিল। আমি করাতে অন্য ভাবে ভেবেছে। প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট কিছু পোটেনশিয়াল আছে। ওরা হয়তো সেটা কাজে লাগাতে চেয়েছিল। আর উনি একজন সিনিয়র অভিনেত্রী। অসাধারণ অভিনেত্রী। ওঁর কিছু রিজার্ভেশন ছিল, সেগুলো যুক্তিসঙ্গত ছিল বলেই হয়তো রাজি হননি।

এর পরে তো সৃজিতের ‘এক যে ছিল রাজা’ আসছে আপনার?

ওটা বোধহয় পুজোর সময় রিলিজ করবে।

খুব গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র আপনার?

ওখানে যিশুদা ভাওয়াল সন্নাস্যী। আমি তার বোন। গল্পের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় চরিত্র। বোনের কারণেই অনেক কিছু ঘটে। আরও কয়েকটা ছবি আসছে।

যেমন?

কৌশিকদার ‘বিজয়া’। সবে ডাবিং শেষ করলাম ছবিটার। তা ছাড়া ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’ রয়েছে। পরিচালক অর্ণব পাল। গল্পটা খুব ভাল। খুব ভাল চরিত্র। স্পিল্ট পার্সোনালিটি। আগে করিনি। মূলত বৃষ্টিরই গল্প। ‘ঝরা পালক’ করেছি। ওটার কিছু ডাবিং বাকি। আর রয়েছে শিবুদার ‘কণ্ঠ।’

ওটা সম্ভবত আগামী বছর রিলিজ?

হ্যাঁ। ওখানে স্পিচ থেরাপিস্টের চরিত্র। আসলে শিবুদাদের কাজের ডিজাইন একেবারে আলাদা। পরের জিনিসটা এত ভাল দেখতে পায় ওরা। শুটিংয়ের সময়েই বুঝতে পারছিলাম ছবিটা কেমন দাঁড়াবে। শিবুদার সঙ্গে কাজ করাটাই একটা এক্সপিরিয়েন্স।

আপনার প্রোডাকশনের প্রথম ছবি ‘দেবী’ কবে মুক্তি পাবে?

আমি খুব চেষ্টা করছি সেপ্টেম্বরে।

ভারতেও দেখা যাবে?

এখানে দেখানোর চেষ্টা করব। আমার বিশ্বাস ‘দেবী’র অডিয়েন্স এখানে আরও বেশি।

প্রথম প্রযোজনাতে এমন একটা সাবজেক্ট বেছে নিলেন কেন?

জানেন, আমার ছোট থেকে ইচ্ছে ছিল, আহা এই ক্যারেক্টারটা যদি করা যায়। আমার কিন্তু প্রযোজক হিসেবে উচিত ছিল কর্মাশিয়াল ছবি যেটা থেকে পয়সা আসে সেটা করা। কিন্তু আমি যে জীবনটা বিশ্বাস করি, যে ছবির সঙ্গে আমি থাকতে চেয়েছি, আমি স্ট্রাগল করেছি, চেষ্টা করেছি সেই ধরনের কাজ করতে।

টাকা ফেরতের কথা ভাবেননি?

দেখুন, আমি সরকারের থেকে সাপোর্ট পেয়েছি। কিন্তু পয়সার কথা ভাবতে গিয়ে আমার প্রোডাকশন হাউজ থেকে এমন কোনও ছবি করতে চাইনি যা আমি বিশ্বাস করি না।

মিসির আলিকে নিয়ে রেসপন্স কেমন?

এখনও পর্যন্ত রেসপন্স খুব ভাল। আসলে একটা প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে হুমায়ুন আহমেদ, মিসির আলি পড়ে। আবার এখনকার প্রজন্মে আস্তে আস্তে সেটা ফেড আউট হয়ে যাচ্ছে। মিডল ক্লাস ফ্যান্টাসির সঙ্গে এখনকার প্রজন্ম পরিচিত নয়। এরা অস্থির। এদের হাতে অনেক অপশন।

মিসির আলিকে কি বইয়ের মতোই দর্শক দেখতে পাবেন?

দেখুন, বইতে আছে নীল খামে চিঠি আসার কথা। সেটা দিয়েই রিলেশন তৈরি হয়েছিল। এখনকার আসপেক্টে এটা তো ফেসবুক ছাড়া বোঝাতে পারব না। ফলে এই ধরনের পরিবর্তন রয়েছে। তবে এসেন্সটা রাখার চেষ্টা করেছি। আমার মিসির আলি পুরো বইয়ের মতো নয়। একটু অন্য রকম। কিন্তু বিলিভেবল। আমি খুবই চেষ্টা করেছি আসলের কাছাকাছি থাকতে।  

এমএ/ ০৯:০০/ ০৭ আগস্ট