logo

প্রাণ জুড়িয়ে যাওয়া মুগ্ধতা সালমার

নাইস নূর


প্রাণ জুড়িয়ে যাওয়া মুগ্ধতা সালমার

‘ঈদের আগে এত বড় খুশির সংবাদ দিতে পেয়েছি, সবাই খুব খুশি হয়েছে। তাই অবশ্যই এবারের ঈদ অন্যান্য ঈদের চেয়ে আমাদের জন্য আলাদা।’ কথাগুলো সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে বলেছেন দেশের জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন। এশিয়া কাপের প্রথম শিরোপা জয়ের আনন্দ উদযাপন এখনো চলছে সারা দেশে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি আনার অনুভূতি ও অন্যান্য অনেক প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সালমা খাতুন।

প্রশ্ন : ঈদের আগে বিরাট সাফল্য এনে দিয়েছেন দেশকে। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতেছেন। নিশ্চয়ই খুব ভালো লাগছে আপনাদের?

সালমা : ঈদের আগে এত বড় খুশির সংবাদ দিতে পেয়েছি সবাই খুব খুশি হয়েছে। অবশ্যই এবারের ঈদ অন্যান্য ঈদের থেকে আমাদের জন্য আলাদা। বেশ আনন্দ করেই এবারের ঈদ কাটবে আমার। বাসার সবাই অপেক্ষা করছে আমি কখন ফিরব। যাঁর যাঁর বাসায় সবাই অপেক্ষা করছে। আমরা সবাই উচ্ছ্বসিত।

প্রশ্ন : আপনার পরিবার থেকে বিজয়ের শুভেচ্ছা ও সাড়া কেমন পেলেন?

সালমা : বাসার সবাই একসঙ্গে খেলা দেখেছিল। সেদিন খেলা শেষ করে রুমে যাওয়ার পর আম্মুকে ফোন দিয়েছিলাম আমি। আম্মু অনেক খুশি হয়েছিল। আমরা জিতেছি তাই আমার এলাকার সবাই খুব খুশি হয়েছে। কাল থেকে আমার অনেক ফোন এসেছে। সবাই শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ফোন দিয়েছিল। অনেক ব্যস্ততার কারণে অনেকের ফোন ধরতে পারছি না। অনেক ক্লান্তও আমি । কিন্তু একের পর এক ফোন আসছেই। ভালোই লাগছে।

এরকম আনন্দ সবাইকে এর আগে আমরা দিতে পারিনি। আমার মন হয়, ভাইয়ারাও দিতে পারে নেই। ভাইয়ারাও আমাদের কাল স্বাগত জানাতে এসেছিল। এটা অনেক বড় পাওয়া। যেদিন ম্যাচ হয়েছিল সেদিন ড্রেসিং রুমে বসে তামিম ভাইয়ারা ও মাশরাফি ভাইয়ারা খেলা দেখছিল। আমার মনে হয়, আমাদের চেয়েও ভাইয়ারা বেশি খেলা উপভোগ করেছে। 

প্রশ্ন : এখন আপনারা এশিয়ার সেরা নারী দল। আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

সালমা : পরবর্তী সফর গুলোতে আমরা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করব। আমাদের প্রতি এখন সবার প্রত্যাশা বেড়ে গেছে। আমরা ধাপে ধাপে এগুতে পারলে ভালো হবে। অনেকদিন পর আমরা টফ্রি নিয়ে এসেছি। এটাকে ধরে রাখতে হলে আমাদের অনেক সময় দিতে হবে। সবার কাছে দোয়া চাই। এটাই প্রত্যাশা।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কাল আপনাদের সংবর্ধনা দিয়েছে। সেখানে  ত্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়েদের জন্য একটি ক্রিকেট একাডেমি দেওয়া হবে। ঘোষণাটি শোনার পর আপনার কেমন লেগেছে?

সালমা : অবশ্যই খুব ভালো লেগেছে। আমাদের সবার ভালো লেগেছে। কারণ মেয়েদের জন্য একাডেমি করবে এটা আমাদের সবার জন্য বড় একটা পাওয়া। মাঠ আমাদের জন্য আলাদা থাকলে ভালো হয়। কারণ মিরপুরে মাঠে যখন আমরা অনুশীলন করি তখন অনেক সময় ভাইয়াদের (পুরুষ ক্রিকেট দল) সঙ্গে আমাদের প্র্যাকটিস করতে হয়।

প্রশ্ন : এবার অন্য প্রসঙ্গে কথা বলি। দীর্ঘদিন ধরে আপনি জাতীয় দলে খেলছেন। আর কতদিন আপনার খেলার ইচ্ছে রয়েছে?

সালমা : জাতীয় দলে এখনো চার কিংবা পাঁচ বছর খেলার ইচ্ছে  আছে। এর থেকেও আসলে অনেক বেশি খেলার ইচ্ছে রয়েছে। অনেক বছর খেলে দেশকে কিছু দিতে পারলে আমার ভালো লাগবে। 

প্রশ্ন :  আপনাদের বেতন-ভাতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেক কথা হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

সালমা : পাপন স্যার (বিসিবি সভাপতি) বলেছেন এটা তারা দেখবেন। এখানে আমাদের বলার কিছু নেই। তারা দায়িত্ব নিয়েছেন, অবশ্যই ভালো কিছু করবে বলে আশাবাদী। খেলতে এসেছি, আমাদের মনোযোগ খেলার প্রতি। বাকিটা বিসিবির দায়িত্ব। তারা যেটা করবে সেটাই আমাদের জন্য ভালো হবে।

এমএ/ ১১:৫৫/ ১২ জুন